
দুর্গাপুর, ৮ জুন ( হি. স.) : হোটেলে ডেকে নিয়ে গিয়ে এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের ঘটনায় এক মহিলাসহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর পুলিশের এই সক্রিয়তার প্রশংসা করার পাশাপাশি অভিযুক্তদের ‘এনকাউন্টার’ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক। এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিল্পশহর দুর্গাপুরে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতরা হলো বুদবুদের বাসিন্দা সিমরন তামাং, গলসীর পুরষা গ্রামের বাসিন্দা আজহারউদ্দিন মল্লিক, রাজবাঁধের বাসিন্দা সুবীর দাস এবং সংশ্লিষ্ট হোটেলের ম্যানেজার রাজকুমার দে। সোমবার ধৃতদের দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের জামিন খারিজ করে ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
অভিযোগ, গত শনিবার বুদবুদ শুকডাল গ্রামের বাসিন্দা, অষ্টম শ্রেণীর ওই নির্যাতিতা ছাত্রীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় তার পরিচিত সিমরান তামাং নামে এক তরুণী। এরপর তাকে ওষুধ মেশানো মদ্যপান করিয়ে তিন যুবকের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ওই যুবকেরা দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার এলাকার একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে ওই ছাত্রীর ওপর পাশবিক অত্যাচার ও ধর্ষণ চালায়। পরবর্তীতে অত্যধিক রক্তক্ষরণ হওয়ায় রাতের দিকে বুদবুদ বাইপাস এলাকায় নির্যাতিতা ছাত্রীকে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। এক টোটোচালক ওই ছাত্রীকে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে বাড়ি পৌঁছে দেন।
এরপরই পরিবারের তরফে দুর্গাপুর মহিলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। তার ভিত্তিতেই তদন্তে নামে সিটি সেন্টার ফাঁড়ির পুলিশ। ঘটনার তদন্তে হোটেলের ঘরের নমুনা সংগ্রহ করেছে ফরেনসিক টিম। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ সিমরন ও হোটেল ম্যানেজার রাজকুমার দে-সহ চারজনকে গ্রেফতার করে।
জানা গেছে, সিমরন নামের ওই তরুণী দরিদ্র মেয়েদের টাকা ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের প্রলোভন দেখিয়ে এই ধরনের চক্রে লিপ্ত করত। এর আগেও দুটি মেয়েকে দিল্লিতে পাচার করার চেষ্টা করেছিল সে। কিন্তু পরিবারের লোকজন পুলিশে খবর দেওয়ায় বেনারস থেকে মেয়ে দুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। অভিযোগ, সিমরন ও তার সহযোগী সুবীর দাস শহরের বেশ কিছু হোটেলে এই ধরনের ঘর বুকিং করে দেহব্যবসার চক্র চালাত। দুর্গাপুর শহরের একাধিক হোটেলে রাতের অন্ধকারে ঘণ্টা হিসেবে কম খরচে ঘর ভাড়া দিয়ে এই ধরনের কারবার চলে বলে অভিযোগ উঠছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, এই চক্রের নেপথ্যে কি আরও বড় কোনও মাথা রয়েছে?
এদিকে, এদিন ধৃতদের দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানোর সময় সেখানে উপস্থিত হন দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সময় ধৃতদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ উগরে পড়ে। বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরাও ধৃতদের কঠোর শাস্তির দাবিতে আদালত চত্বরে বিক্ষোভ দেখান, যার জেরে আদালত চত্বরে উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দুর্গাপুর থানার পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা যারা ঘটাচ্ছে, তাদের সকালে ধরে বিকালে ‘খরচ’ করে দেওয়া দরকার। কোনওরকম ট্রায়াল না করে সরাসরি এনকাউন্টার করা দরকার। তাহলে সমাজে একটি কড়া বার্তা যাবে। আমাদের সরকার এবং পুলিশ প্রশাসন যথেষ্ট সক্রিয়। পুলিশ খুব ভালো কাজ করেছে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করেছে।’’ পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালানো হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা