
আগরতলা, ৯ জুন (হি.স.) : ত্রিপুরায় যুবসমাজকে নেশার গ্রাস থেকে রক্ষা করতে এবার একযোগে মাঠে নামল পশ্চিম জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন। সোমবার রাতে রাজধানীর বটতলা এলাকায় জেলা প্রশাসন ও পশ্চিম জেলা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে ব্যাপক নেশাবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। তবে অভিযানের আগাম খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় মাদক কারবারিরা আগেই বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় সামগ্রী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে প্রশাসনের এই বিশেষ অভিযান কার্যত প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সোমবার রাতে বটতলা বাজার ও সংলগ্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপার নমিত পাঠক এবং পশ্চিম জেলার জেলাশাসক ডাঃ বিশাল কুমার। অভিযানে পুলিশ ও প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক অংশ নেন। বটতলার বিভিন্ন গলি, দোকানপাট ও সন্দেহভাজন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়।
জানা গেছে, সম্প্রতি পুলিশের কাছে তথ্য আসে যে মাদক পাচারের উপর নজরদারি বৃদ্ধি পাওয়ায় বটতলা এলাকায় সক্রিয় মাদক চক্র বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ নেশাদ্রব্য বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে মজুত করে রেখেছে। বিশেষ করে ইয়াবা ট্যাবলেট এবং নিষিদ্ধ কফ সিরাপের বড় চালান ওই এলাকায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন যৌথভাবে আকস্মিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
কিন্তু অভিযানের আগেই মাদক কারবারীরা পুলিশের তৎপরতার খবর পেয়ে যায় বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযানের তথ্য কোনওভাবে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় কারবারিরা দ্রুত মাদক সামগ্রী শহরের বিভিন্ন প্রান্তে সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়। ফলে অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার সম্ভব হয়নি।
অভিযান চলাকালীন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপার নমিত পাঠক বলেন, “নেশাজাতীয় দ্রব্যের অবৈধ ব্যবহার, মজুতকরণ এবং পাচার রোধে এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হবে। সমাজের প্রতিটি সচেতন নাগরিককে নেশার বিরুদ্ধে এগিয়ে আসতে হবে। কেউ যদি কোনও তথ্য জানেন, তাহলে তা পুলিশকে জানান। প্রতিটি তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। নেশার বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিকে সফল করতে পুলিশ সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা ইতিপূর্বে নেশার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি সমাজের সব স্তরের মানুষকে মাদকবিরোধী আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সেই বার্তাকেই সামনে রেখে এবার জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন যৌথভাবে মাদকবিরোধী অভিযানে নামল।
তবে অভিযানের আগাম খবর কীভাবে মাদক কারবারিদের কাছে পৌঁছাল, তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরমহলেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তথ্য ফাঁসের বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। স্থানীয়দের মতে, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ও সফল অভিযান পরিচালনা করতে হলে প্রথমেই তথ্য পাচারের পথ বন্ধ করা জরুরি। নচেৎ বারবার অভিযান চালিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবে না।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ