বিশেষভাবে সক্ষম কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, মধুপুর সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তি
বিশালগড় (ত্রিপুরা), ৯ জুন (হি.স.) : বিশেষভাবে সক্ষম জনৈকা কিশোরীকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে শেষরক্ষা হলো না পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তির। পুলিশের চোখে ধুলো দিতে পুকুরে ঝাঁপ দিয়েও এড়াতে পারল না গ্রেফতারী। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে স
কিশোরী ধর্ষিতা


বিশালগড় (ত্রিপুরা), ৯ জুন (হি.স.) : বিশেষভাবে সক্ষম জনৈকা কিশোরীকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে শেষরক্ষা হলো না পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তির। পুলিশের চোখে ধুলো দিতে পুকুরে ঝাঁপ দিয়েও এড়াতে পারল না গ্রেফতারী। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে সিপাহীজলা জেলার বিশালগড় মহকুমার মধুপুর থানার অন্তর্গত কোনাবনের হরিহর দোলা সীমান্ত এলাকায়। ধৃত অভিযুক্তের নাম চন্দন সরকার (৫০)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হরিহরদোলা সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা চন্দন সরকার শারীরিক ও মানসিকভাবে বিশেষভাবে সক্ষম ওই কিশোরীকে বিভিন্ন সময়ে প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। শেষপর্যন্ত গ্রামবাসীদের হাতে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ে অভিযুক্ত চন্দন।

অভিযোগ, ঘটনাটি জানাজানি হতেই তা ধামাচাপা দিতে সক্রিয় হয়ে ওঠে এলাকার কিছু চুনোপুঁটি নেতা। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এলাকায় একটি গোপন মীমাংসা সভাও বসানো হয়। সেই সভায় নির্যাতিতা কিশোরীর পরিবারকে মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ রাখার নিদান দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

গোপন মীমাংসার মাধ্যমে ঘটনাটি চেপে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, কোনোক্রমে এই অমানবিক নির্যাতনের খবর পৌঁছায় রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশকের দফতরে। খবর পাওয়া মাত্রই অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সিপাহীজলা জেলার পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মাকে নির্দেশ দেন মহানির্দেশক।

মহানির্দেশকের কড়া বার্তা পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে অভিযানে নামে প্রশাসন। সিপাহীজলা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মধুপুর থানার ওসি, বিশালগড় মহিলা থানার পুলিশ এবং টিএসআর জওয়ানরা একযোগে অভিযুক্ত চন্দন সরকারের বাড়িতে হানা দেন।

পুলিশের গাড়ি দেখেই চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্ত। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে চন্দন সরকার বাড়ির পেছনের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেয়। তবে লাভ হয়নি, পুলিশ কর্মীরাও তৎপরতার সাথে জলাশয় থেকে তাকে জলবন্দী করে গ্রেফতার করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত মধুপুর থানায় ছুটে আসেন বিশালগড় মহকুমা প্রশাসনের ডেপুটি কালেক্টর এবং সিপাহীজলা জেলার চাইল্ড লাইনের কর্মীরা। চাইল্ড লাইনের প্রতিনিধিরা নির্যাতিতা কিশোরী ও তাঁর মাকে উদ্ধার করে সুরক্ষার স্বার্থে চাইল্ড লাইন অফিসে নিয়ে যান।

মঙ্গলবার দুপুরে সিপাহীজলা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই অভিযানের সাফল্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, ধৃত চন্দন সরকারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় ধর্ষণের মামলা নথিভুক্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে যুক্ত সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।

এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় হরিহরদোলা সীমান্ত এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামবাসীরা একযোগে অভিযুক্ত চন্দন সরকারের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, পুলিশের কড়া অবস্থানের পরেও থেমে নেই অপরাধীদের মদতদাতারা। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল থেকেই অভিযুক্ত চন্দন সরকারকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে সীমান্ত এলাকার কিছু কুখ্যাত পাচারকারী ও চুনোপুঁটি নেতারা জোর দৌড়ঝাঁপ ও তদ্বির শুরু করেছে। তবে পুলিশ প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, অপরাধীকে কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande