
কলকাতা, ৯ জুন (হি. স.) : পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের বিরুদ্ধে দুর্গাপূজা কেন্দ্রিক এক বড়সড় আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ, ২০২২ সাল থেকে কলকাতার বড় বড় দুর্গাপূজা মণ্ডপগুলিতে প্রিভিউ শো এবং প্রি-এন্ট্রি টিকিটের নামে কোটি কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় কলকাতার বউবাজার থানায় জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সূত্রের খবর, অভিযোগে দাবি করা হয়েছে যে ইন্দ্রনীল সেন ও মধুছন্দা সেন ‘মাস আর্ট’ নামক একটি সংস্থার মাধ্যমে এই পুরো নেটওয়ার্কটি চালাতেন। এই সংস্থার আড়ালে প্রিভিউ শো এবং বিশেষ প্রি-পূজা এন্ট্রি টিকিট চড়া দামে বিক্রি করা হতো বলে অভিযোগ। এমনকি কিছু কিছু টিকিটের দাম চার হাজার টাকা পর্যন্ত রাখা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, এই টিকিট বিক্রির সময় বিশ্বখ্যাত সংস্থা ইউনেস্কো -র নাম এবং লোগো ব্যবহার করা হতো। অথচ ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে এই ধরনের কোনও বাণিজ্যিক চুক্তি বা লোগো ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে যে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শুধুমাত্র দেশেই নয়, বিদেশেও চড়া দামে টিকিট বিক্রি করা হয়েছে।
এই মামলায় ইন্দ্রনীল সেন এবং মধুছন্দা সেন ছাড়াও ধ্রুবজ্যোতি বসু (শুভ), সায়ন্তন মৈত্র এবং রাজন চট্টোপাধ্যায়ের নামও সামনে এসেছে। এই টিকিট বিক্রির চক্রটিকে পরিচালনা এবং ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে, সঙ্গীত জগতেও ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক অভিযোগ উঠছিল। কিছু শিল্পীর দাবি, সরকারি অনুষ্ঠানগুলিতে সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার নামে এক প্রকার কমিশন নেওয়া হতো। গায়ক তথা চিকিৎসক উৎসব দাস অভিযোগ করেছেন যে, কিছু বাছাই করা শিল্পীকে প্রতিনিয়ত সরকারি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো, যেখানে অন্যান্য যোগ্য শিল্পীদের ক্রমাগত উপেক্ষা করা হয়েছে।
আপাতত এই পুরো বিষয়টিতে পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগগুলির কোনও আনুষ্ঠানিক বা আইনি সত্যতা এখনও পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি