
আগরতলা, ৯ জুন (হি.স.) : ত্রিপুরায় গবাদিপশুর উন্নত জাতের প্রজনন এবং দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দফতরের উদ্যোগে পশ্চিম জেলার আর কে নগরে অত্যাধুনিক লিকুইড নাইট্রোজেন প্ল্যান্ট, প্ল্যান্ট ভবন ও কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন রাজ্যের প্রাণীসম্পদ বিকাশ দফতরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক রতন চক্রবর্তী, দফতরের সচিব দীপা ডি নায়ার, অধিকর্তা নিরজ কুমার চঞ্চল, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল-সহ দফতরের অন্যান্য আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
প্রাণীসম্পদ বিকাশ দফতর এবং ত্রিপুরা লাইভস্টক ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির যৌথ উদ্যোগে স্থাপিত এই প্ল্যান্ট রাজ্যের পশুপালন ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। এতদিন গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজনন বা আর্টিফিশিয়াল ইনসেমিনেশনের জন্য প্রয়োজনীয় বীর্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত লিকুইড নাইট্রোজেন বহিঃরাজ্য থেকে সংগ্রহ করতে হতো। এর ফলে পরিবহন ব্যয় ও সময়—দুইই বেশি ব্যয় হত। নতুন প্ল্যান্ট চালু হওয়ার ফলে এখন থেকে রাজ্যেই লিকুইড নাইট্রোজেন উৎপাদন ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যা কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ব্যয়সাশ্রয়ী করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী সুধাংশু দাস বলেন, ত্রিপুরায় দীর্ঘদিন ধরেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উন্নত জাতের গবাদিপশুর প্রজনন করা হচ্ছে। তবে শুক্রাণু সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় লিকুইড নাইট্রোজেন বাইরে থেকে আনতে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হত। আর কে নগরে এই প্ল্যান্ট চালু হওয়ার ফলে সেই নির্ভরশীলতা অনেকাংশে কমবে। তিনি জানান, এই প্ল্যান্ট থেকে বছরে প্রায় ১৫ হাজার লিটার লিকুইড নাইট্রোজেন উৎপাদন সম্ভব হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যের উদয়পুর ও কুমারঘাট এলাকাতেও একই ধরনের আরও দুটি লিকুইড নাইট্রোজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। সেগুলি সম্পূর্ণরূপে চালু হয়ে গেলে রাজ্যে বছরে মোট প্রায় ৪৫ হাজার লিটার লিকুইড নাইট্রোজেন উৎপাদন করা সম্ভব হবে। ফলে কৃত্রিম প্রজনন কর্মসূচি আরও সম্প্রসারিত হবে এবং উন্নত জাতের গবাদিপশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, “এটি প্রাণীসম্পদ বিকাশ দফতরের একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই মেশিনগুলি নিউজিল্যান্ড থেকে আমদানি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজ্যের পশুপালন খাতে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো।”
দফতর সূত্রে জানা গেছে, কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উন্নত জাতের গরু ও অন্যান্য গবাদিপশুর সংখ্যা বাড়িয়ে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। রাজ্যে দুগ্ধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং পশুপালকদের আর্থিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তোলার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রজনন প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে গবাদিপশুর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের দুগ্ধ শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নতুন লিকুইড নাইট্রোজেন প্ল্যান্ট চালু হওয়ায় রাজ্যের পশুপালন ও দুগ্ধ উৎপাদন খাতে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ