
আগরতলা, ৯ জুন (হি.স.) : রাজধানীর উপকণ্ঠে হাপানিয়ায় কার্তিক চৌমুহনী এলাকায় দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভাড়া বাড়িতে বসবাসকারী এক দম্পতির অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা ঘরের তালা ভেঙে নগদ সাড়ে ৩ লক্ষাধিক টাকা এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে আমতলি থানার পুলিশ।
জানা গেছে, আমতলি থানাধীন হাপানিয়ায় কার্তিক চৌমুহনী এলাকায় ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন বিষ্ণু ঘোষ ও তাঁর স্ত্রী শম্পা ঘোষ। দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের একটি জমি কেনার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে তাঁরা কষ্টার্জিত অর্থ সঞ্চয় করছিলেন। সেই উদ্দেশ্যে বাড়িতে নগদ ৩ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা এবং বেশ কিছু স্বর্ণ ও রৌপ্য অলঙ্কার সংরক্ষিত ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন দম্পতি বাড়িতে তালা দিয়ে বাইরে বেড়াতে যান। সোমবার বাড়িতে ফিরে এসে তাঁরা দেখতে পান ঘরের মূল দরজার তালা ভাঙা এবং ঘরের ভেতরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এরপর আলমারি ও অন্যান্য জায়গা পরীক্ষা করে দেখা যায়, নগদ অর্থ ও মূল্যবান গয়না উধাও।
ভুক্তভোগী শম্পা ঘোষ জানান, চোরের দল নগদ ৩ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকার পাশাপাশি পাঁচ জোড়া সোনার কানের দুল, একটি সোনার গলার হার, শিশুদের তিন থেকে চার জোড়া সোনার বালা, দুটি রুপোর হার, একটি রুপোর চেন, একটি সিঁদুরের কৌটা এবং আরও বেশ কিছু মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে গেছে।
স্থানীয়দের মতে, বাড়িটি কয়েকদিন ধরে ফাঁকা থাকার বিষয়টি আগে থেকেই নজরে রেখেছিল চোরের দল। সেই সুযোগেই পরিকল্পিতভাবে চুরি করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
খবর পেয়ে আমতলি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ ঘর পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে, সর্বস্ব হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বিষ্ণু ঘোষ ও শম্পা ঘোষ। তাঁদের দাবি, বহু বছরের সঞ্চয় মুহূর্তের মধ্যে লুট হয়ে যাওয়ায় তাঁরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে চোরদের শনাক্ত করে খোয়া যাওয়া অর্থ ও গয়না উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।
পুলিশের জনৈক আধিকারিক জানান, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হবে বলে আশাবাদী তদন্তকারী দল।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ