Custom Heading

করিমগঞ্জে মেডিক্যাল কলেজ ও উন্নয়ন, কং-নেতা বিধায়ক কমলাক্ষকে চ্যালেঞ্জ জেলা বিজেপির
করিমগঞ্জ (অসম), ৩ ডিসেম্বর (হি.স.) : শতাব্দী-প্রাচীন কংগ্রেস দল আজ সমগ্র দেশে অস্তমিত সূর্য। ক্ষমতা
করিমগঞ্জে মেডিক্যাল কলেজ ও উন্নয়ন, কং-নেতা বিধায়ক কমলাক্ষকে চ্যালেঞ্জ জেলা বিজেপির


করিমগঞ্জ (অসম), ৩ ডিসেম্বর (হি.স.) : শতাব্দী-প্রাচীন কংগ্রেস দল আজ সমগ্র দেশে অস্তমিত সূর্য। ক্ষমতা হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় এই দলের নেতা বিধায়করা ন্যূনতম রাজনৈতিক শিষ্টাচার পর্যন্ত ভুলে গিয়েছেন। নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার জন্য শিষ্টাচারের সকল গণ্ডি অতিক্রম করতেও সামান্যতম লজ্জাবোধ‌ করছেন না কংগ্রেসিরা। আজ শুক্রবার দলের জেলা সদর কার্যালয় শ্যামাপ্রসাদ স্মৃতি ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী সভাপতি তথা উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থকে এভাবেই আক্রমণ করেছেন জেলা বিজেপি সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য।

বরাক সহ রাজ্যের বাঙালিদের ত্রাতার মুখোশ না লাগিয়ে, নিজের দলের সরকারের আমলে করিমগঞ্জবাসী জনগনের জন্য কী কী উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন সেই হিসাবটা‌ও জনসমক্ষে তুলে ধরতে কমলাক্ষের প্রতি রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন সুব্রত। প্রস্তাবিত চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় করিমগঞ্জেই স্থাপিত হবে, সেই বিষয়টা একশো শতাংশ নিশ্চিত। নিজের সরকারের আমলে-তো কিছু করার সাধ্য ছিল না, তাই বিজেপি সরকারের কমিটমেন্ট চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় নিয়ে কমলাক্ষকে অযথা মাথা না ঘামানোর পরামর্শ দেন জেলা বিজেপি সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য।

'বরাকের মাটি ভালো নয় দূষিত', প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের এই মন্তব্যের কথাও কমলাক্ষকে স্মরণ করিয়ে দেন সুব্রত। বরাকবাসী এ সব কথা এখন‌ও ভুলেননি। ৫০ বছরের বেশি সময় রাজ্যে শাসনক্ষতায় ছিল কংগ্রেস। ২০০১ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত টানা ১৫ বছর রাজ্যে তরুণ গগৈ নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস দল শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল। বরাকের সার্বিক উন্নতিকল্পে কংগ্রেস সরকার কী কী প্রকল্প বাস্তবায়িত করেছে? সাহস থাকলে সেই হিসাবটা বরাকবাসীর সামনে তুলে ধরতে কমলাক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানান সুব্রত ভট্টাচার্য।

কংগ্রেস শাসনামলে বরাকের বিভীষিকাময় যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে সুব্রত বলেন, সে সময় করিমগঞ্জ জেলা সদর থেকে বদরপুর পৌঁছতে হলে দু-ঘণ্টা, শিলচর পৌঁছতে চার ঘণ্টা এবং গুয়াহাটি পৌঁছতে ২৪ ঘন্টা সময় লাগত। তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের এ সব প্রতিদান করিমগঞ্জ জেলাবাসী আজ পর্যন্ত ভুলেননি। ৫০ বছরের শাসনামলে কংগ্রেস যা করতে পারেনি, মাত্র ছয় বছরের আমলেই বিজেপি সরকার বাস্তবে করে দেখিয়েছে। জেলা সদর থেকে শিলচরে এখন দেড় ঘণ্টায় এবং মাত্র সাত থেকে আট ঘণ্টায় গুয়াহাটি পৌঁছা যায়। আর এটা একমাত্র সম্ভব হয়েছে বিজেপি সরকারের কর্মতৎপরতার জন্য।

কংগ্রেস শাসনে এই জেলায় একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী সহ দু-দুজন সংসদীয় সচিব ছিলেন। জেলার সার্বিক উন্নয়নে তাঁরা কী কী প্রকল্প বাস্তবায়িত করেছেন? সাংবাদিকদের মাধ্যমে সে সব তথ্‌েও করিমগঞ্জবাসীর সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন ছিল বলেও কমলাক্ষকে ঠুকেন সুব্রত। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল চেয়ারে বসেই বরাক-ব্রহ্মপুত্র পাহাড়-সমতলের সম-উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী অনেক কাজ‌ও করে গিয়েছেন তিনি। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা‌ও বরাকের সার্বিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছেন।

ছয় বছরের বিজেপি শাসনে মুখ্যমন্ত্রী বরাক সফরে যতবার এসেছেন, ৫০ বছরের বশি সময় ক্ষমতায় থাকাকালীন তৎকালীন কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রীরা কতবার বরাক সফরে এসেছেন? এর কি কোনও তথ্য আছে কমলাক্ষবাবুর কাছে? বরাক ও ব্রহ্মপুত্রের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে কীভাবে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা যায়, কংগ্রেসিরা তাঁদের শাসনামলে এ নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। বরাককে দুর্নীতির আঁতুর ঘরে পরিণত করে রেখেছিলেন কংগ্রেসি মন্ত্রী বিধায়কগণ। ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দিশেহারা কংগ্রেসিদের মুখে উন্নয়ন নিয়ে কথাবার্তা শোভা পায় না বলেও কটাক্ষ করেন জেলা বিজেপি সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য।

বৃহৎ দুটি প্রকল্প এসেছে বিনা আন্দোলনে। মেডিক্যাল কলেজে ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে করিমগঞ্জ জেলায়। এজন্য সকলের খুশি থাকা দরকার। বলেছেন এসসি বোর্ডের চেয়ারম্যান কৃষ্ণ দাস। তিনি বলেন বাংলা ভাষাকে বন্ধক দেওয়া হয়েছে বলে বিধায়ক কমলাক্ষ যে মন্তব্য করেছেন তা খুবই নিন্দনীয়। কংগ্রেস ও অগপ সরকারের আমলে ভাষা সার্কুলার বরাকে প্রয়োগের চেষ্টার সময় তীব্র বিরোধিতা করেছিল বিজেপি। বিজেপির সভায় ভাষা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন জেলা নেতৃত্ব সহ বিধায়কগণ। ফলে এ নিয়ে কংগ্রেস যে কূট-চাল দিচ্ছে সেটা মানুষ বুঝতে পারছেন, মনে করেন তিনি।

বিজেপির প্রদেশ কমিটির সদস্য অমরেশ রায় বলেন, বরাকে কংগ্রেস নেতারা কটাক্ষ করে যা বলেন তার প্রতিক্রিয়া ব্রক্ষ্মপুত্র ভ্যােলিতে হলে এর দায়ভার কে নেবে? জেলা কংগ্রেস সভাপতি ও উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়কের মন্তব্য থেকে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে। বলেন, কংগ্রেসের সময় বরাক ও ব্রক্ষ্মপুত্র ভ্যাবলির মধ্যে যে অসামঞ্জস্য সৃষ্টি হয়েছিল সেটার পরিবর্তন করেছে বিজেপি সরকার। তাই তিনি দুই উপত্যরকার মধ্যে বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর মতো কিছু না করার অনুরোধ জানান।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক নির্মল বণিক, শহর উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান দেবব্রত সাহা, জেলা বিজেপির মুখপাত্র নিশিকান্ত ভট্টাচার্য।

হিন্দুস্থান সমাচার / জন্মজিৎ / সমীপ


 rajesh pande