Custom Heading

কাছাড়ে বিশ্ব দিব্যাঙ্গ দিবস, মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ১৫ জনকে প্রেরণা পুরস্কার শিলচরে
শিলচর (অসম), ৩ ডিসেম্বর (হি.স.) : বাধাগ্রস্থ শিশুরাও সমানভাবে সমাজের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। দিব্যাঙ্গ অর্থ
কাছাড়ে বিশ্ব দিব্যাঙ্গ দিবস, মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ১৫ জনকে প্রেরণা পুরস্কার শিলচরে


শিলচর (অসম), ৩ ডিসেম্বর (হি.স.) : বাধাগ্রস্থ শিশুরাও সমানভাবে সমাজের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। দিব্যাঙ্গ অর্থাৎ বিশেষভাবে সক্ষম শিশুরা জীবনে ব্যতিক্রমী প্রতিষ্ঠা লাভ করে দেশ ও সমাজের সার্বিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে। তাই বাধাগ্রস্থ শিশুদের প্রতি যথার্থ শুশ্রুষা ও যত্নশীল হওয়া সমাজের প্রত্যেক শ্রেণির মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য। প্রত্যেকটি বাধাগ্রস্থ শিশু আগামীদিনে নিজেদের অভ্যন্তরীণ প্রতিভার মাধ্যমে শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনে গুরুদায়িত্ব পালন করে সামগ্রিকভাবে সমাজজীবনকে বিকশিত করে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা পালনের অজস্র দৃষ্টান্ত পরিলক্ষিত হচ্ছে। কাজেই প্রতিটি বাধাগ্রস্থ শিশু অর্থাৎ বিশেষভাবে সক্ষম ছেলেমেয়েদের সুচারুরূপে যত্ন সহকারে তাদের শিক্ষার অধিকার কার্যকর করে ভবিষ্যত উজ্জ্বল করে তুলতে প্রত্যেক অভিভাবক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দায়বদ্ধতার খাতিরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন কাছাড়ের ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট কমিশনার তথা শিক্ষা বিভাগের ইনচার্জ রাজীব রায়।

আজ বিশ্ব দিব্যাঙ্গ দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, সমগ্র শিক্ষা অভিযান শিলচর আরবান ব্লক ও জেলা সমাজ কল্যাণ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শিলচর নর্মাল স্কুলের মিলনায়তন ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন ডিডিসি (অ্যাডুকেশন ইনচার্জ) রাজীব রায়।

এদিন প্রথমে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। পরে বিশ্ব দিব্যাঙ্গ দিবসের উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন সমগ্র শিক্ষা অভিযানের শিলচর আরবান ব্লকের রিসোর্স পার্সন ঝুমা ভট্টাচার্য। তিনি গত এক সপ্তাহব্যাপী বিশ্ব দিব্যাঙ্গ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির বিষয় তুলে ধরেন। ঝুমা ভট্টাচার্য আরও জানান, গত ২৭ নভেম্বর থেকে শিলচর আরবান ব্লকের প্রতিটি স্কুলে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে বিশ্ব দিব্যাঙ্গ সপ্তাহ পালন করা হয়েছে। পরে সমগ্র শিক্ষা অভিযানের সমন্বিত ও শৈশব শিক্ষা বিভাগের ডিপিও রাণারঞ্জন নাথ দিব্যাঙ্গ শিশুদের মধ্যে থাকা ব্যতিক্রমী প্রতিভার প্রস্ফূটনে শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ এবং কর্মসূচির বিস্তৃত আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, প্রত্যেক বাধাগ্রস্থ শিশুদের মধ্যে বিরল প্রতিভা বিরাজমান। অনেক সময় বাধাগ্রস্থ শিশুরাই প্রত্যাশা থেকে বহুগুণ বেশি সফল হয়ে উঠতে সক্ষম হয়। তাই বাধাগ্রস্ত অর্থাৎ বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের গুরুত্ব সহকারে লালন পালন ও পড়াশোনার অগ্রগতিতে অধিক যত্নবান হতে অভিভাবকদের পরামর্শ দেন রাণারঞ্জন নাথ। অনুষ্ঠানে একক ও যৌথ নৃত্য, সঙ্গীত পরিবেশন করেন দিব্যাঙ্গ শিশুরা। এছাড়া হাড়িভাঙ্গা-ব্লাইন্ড হিট, মিউজিক্যাল চেয়ার সহ বিভিন্ন ইনডোর গ্যামে অংশগ্রহণ করেন দিব্যাঙ্গ শিশুরা।

আজকের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো ফল করেছে এমন ১৫ জন দিব্যাঙ্গ ছাত্রছাত্রীকে ‘প্রেরণা অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। এছাড়া দিব্যাঙ্গ ছেলেমেয়েদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে লাগাতার উৎসাহ প্রদানে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী পাঁচ শিক্ষককে একইভাবে ‘প্রেরণা অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। তাঁদের উত্তরীয়, মানপত্র সহ পুরস্কার সামগ্রী তুলে দেন উপস্থিত অতিথিরা।

সম্মানিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষাধিকারিক সুমিত্রা দেব, নর্মাল স্কুলের অধ্যক্ষ মানসী সিনহা, জেলা সমাজ কল্যাণ আধিকারিক শাশ্বতী সোম, ডিস্ট্রিক্ট আরবান কো-অর্ডিনেটর গৌতম দাস, সমগ্র শিক্ষা অভিযানের ডিপিও (সমাজ জড়িতকরণ বিভাগ) ড. বিদ্যুৎ দেবচৌধুরী সহ শিক্ষক সিআরসিসিবৃন্দ। গোটা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিআরসিসি অশোক কুমার দেব।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশু / সমীপ


 rajesh pande