'ম্যা হুঁ চৌকিদার'-রচনাটি ব্যঙ্গের মাধ্যমে রাজনৈতিক বোঝাপড়া তৈরি করবে : রাম বাহাদুর রাই
নয়াদিল্লি, ২ ডিসেম্বর (হি.স.) : ‘ম্যা হুঁ চৌকিদার’-রচনাটি ব্যঙ্গের মাধ্যমে রাজনৈতিক বোঝাপড়া তৈরি ক
‘ম্যা হুঁ চৌকিদার’-রচনাটি ব্যঙ্গের মাধ্যমে রাজনৈতিক বোঝাপড়া তৈরি করবে : রাম বাহাদুর রাই


নয়াদিল্লি, ২ ডিসেম্বর (হি.স.) : ‘ম্যা হুঁ চৌকিদার’-রচনাটি ব্যঙ্গের মাধ্যমে রাজনৈতিক বোঝাপড়া তৈরি করবে। শনিবার বিখ্যাত ব্যঙ্গশিল্পী ডক্টর চন্দ্রভানু শর্মার রচনা 'ম্যায় হুঁ চৌকিদার'-রচনাটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে একথা বলেন প্রখ্যাত সাংবাদিক এবং ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল সেন্টার ফর আর্টসের সভাপতি রাম বাহাদুর রাই ।

প্রখ্যাত সাংবাদিক এবং ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল সেন্টার ফর আর্টসের সভাপতি রাম বাহাদুর রাই বিশ্বাস করেন, আজকাল সুস্থ ব্যঙ্গের ধারা সাহিত্যে খুব কমই দেখা যায়। তিনি জানান, একজন ব্যঙ্গশিল্পী খুব কম কথায় অনেক কিছু বলে ফেলেন। ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য আর্টস-এর অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি সাহিত্যিক ডঃ চন্দ্রভানু শর্মার ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যারা রাজনীতি ঠিকমতো বোঝে না, তাঁরাও এঁনার ব্যঙ্গরসাত্মক লেখার মাধ্যমে রাজনীতির উপায় শিখতে পারেন। ডক্টর শর্মা তাঁর 'ম্যায় ভি চৌকিদার' বইয়ে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মোদীর প্রভাব ও তাঁর বিরোধীতা, সুবিধাবাদী জোট, দুর্নীতি, আদালতের সংস্কৃতি এবং ৩৭০ ধারা, কৃষকদের আন্দোলন এবং শাহিনবাগের প্রতিবাদকে গভীরভাবে আক্রমণ করেছেন। রাম বাহাদুর রায় এদিন বলেন, ড. শর্মার ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ রচনা হরিশঙ্কর পরসাইয়ের মতো মানুষকে আঘাত করে না, বরং এটি এতটাই আক্রমণাত্মক যে মানুষ এটি অনুভব করে এবং ভালোবাসে। তিনি এদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনগণকে 'ম্যা হুঁ চৌকিদার' নামের এই বইটি পড়ার আহ্বান জানান এবং প্রতিটি পরিবারকে তাঁদের কাছে একটি বইটি রাখতে অনুরোধ করেন।

ডাঃ শর্মার বৃত্তির প্রশংসা করে তিনি বলেন, কাশ্মীরে প্রয়োগ করা ৩৭০ অনুচ্ছেদকে ব্যঙ্গাত্মক করার সময় তিনি ৩৫এ-ও উল্লেখ করেছেন। তার ফলে পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে যে বিষয়টি সম্পর্কে তাঁর সম্পূর্ণ ধারণা রয়েছে। রাম বাহাদুর রাই ডাঃ চন্দ্রভানু শর্মার অন্যান্য কাজের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তিনি ১২৫ বছর বয়স পর্যন্ত বই লিখবেন যাতে নতুন প্রজন্ম জ্ঞানের পাশাপাশি হাস্যকর রসিকতা উপভোগ করতে পারে।

এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও সাংসদ প্রবেশ সাহেব সিং ভার্মা বলেন, একজন সৃজনশীল লেখক তাঁর জীবনে অর্থ উপার্জনের চিন্তা করেন না, তাই তিনি নির্বিঘ্নে কাউকে নিয়ে লিখতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সম্পর্কে তিনি বলেন, 'আমি চৌকিদার' উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২৩ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী হিসাবে অবিরাম কাজ করার পরেও তাঁর গায়ে এক পয়সারও দাগ লাগেনি।

'ম্যায় ভি চৌকিদার' সম্পর্কে ডক্টর চন্দ্রভানু শর্মা জানান, তিনি এই সাহিত্যের জন্যই এতদিন অপেক্ষা করছিলেন ঠিক যেমনভাবে একজন মা বছরের পর বছর একটি সন্তানের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন, যেমনভাবে একজন মধ্যবয়সী পুরুষ বিয়ের প্রস্তাবের পরে কৌতূহলী থাকে ঠিক সেরকমই অনুভূতি ছিল রচয়িতার। তিনি বলেন, জীবনে যা-ই লিখেছেন, কোনো প্রত্যাশা ও প্রতিক্রিয়া ছাড়াই তিনি লিখেছেন। অনেকে তাঁকে সহযোগী হিসাবে উৎসাহিত করেছিল এবং কেউ কেউ তাঁকে দিকনির্দেশনাও দিয়েছিল। শনিবার তিনি মঞ্চ থেকে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

‘ম্যায় ভি চৌকিদার’-এর ভূমিকা পেশ করেন প্রবীণ কবি নরেশ শাণ্ডিল্য। বৈঠকটি পরিচালনা করেন বর্যীয়ান সাংবাদিক ও হিন্দুস্থান সমাচারের সম্পাদক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। এদিনের অনুষ্ঠানের সবশেষে দিল্লি পুলিশের এসএইচও সর্বেশ শর্মা সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / অর্পিতা




 

 rajesh pande