মোদীর ভোজসভায় সকন্যা হাসিনা, তসলিমার ধর্মনিরপক্ষতার পোস্টে সরব নেটনাগরিকরা
অশোক সেনগুপ্ত কলকাতা, ১০ জুন (হি. স.) : নরেন্দ্র মোদীর শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য দিল্লি আসেন প
মোদীর ভোজসভায় সকন্যা হাসিনা, তসলিমার ধর্মনিরপক্ষতার পোস্টে সরব নেটনাগরিকরা


অশোক সেনগুপ্ত

কলকাতা, ১০ জুন (হি. স.) : নরেন্দ্র মোদীর শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য দিল্লি আসেন পড়শিদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সঙ্গে তাঁর মেয়ে, সাইমা ওয়াজেদ। রবিবার শপথ অনুষ্ঠানের আগে দুপুরবেলায়, সেই মা-মেয়েকেই দেখা গেল খাওয়াদাওয়া করতে। সেই ছবি এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন সাইমা নিজে। তার পরেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। সেই ছবি-সহ সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। পেলেন নেটনাগরিকদের সমর্থন।

তসলিমা রবিবার গভীর রাতে সেই ছবি যুক্ত করে সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “মৌলবাদি মুসলিমদের দেশ থেকে বেরোলে তাঁদের আর ঘোমটার দরকার হয় না, ওড়নার বা দোপাট্টার দরকার হয় না, হিজাবের তো দরকার হয়ই না।” সোমবার বেলা ১টার মধ্যে এতে লাইক, মন্তব্য ও শেয়ার হয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৯০০, ৩৬ ও ৫৩।

প্রতিক্রিয়ায় পার্থ বল লিখেছেন, “আমার তো ছবিটা দেখে খুব ভাল লাগছে দিদি। কারণ, এ তো আপনারই জয়। শেখ হাসিনা মূখে স্বীকার না করলেও মনে মনে তো নিশ্চয়ই বোঝেন যে, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এসব বোরখা পড়ার কোন যুক্তিই নেই। আমি বলছি না যে, কোরানের কথা ভূল। কারণ কোরান যখন তৈরি হয়েছিল তখন হয়ত সেই সময়ের পরিপেক্ষেতে তা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু আজ তো তার কোন যুক্তি নেই। কাজেই আপনি যে সঠিক তা উনিও নিশ্চয়ই বোঝেন।কিন্তু প্রকাশ্যে তা বলার ক্ষমতা রাখেন না, জনপ্রিয়তা হারানোর ভয়ে হোক বা গদি হারানোর ভয়ে হোক। ইসলাম ধর্ম বা যে কোন ধর্মকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে বা জনপ্রিয় করতে হলে তাকে সময়োপযোগী করতে হবে কিন্তু মৌলবাদীদের আস্ফলনে তা করবেটা কে? বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধতে গেলে তার জন্যে যে সাহস দরকার তা আপনার মতোন আর কজনের আছে? দেশের প্রধান মন্ত্রীরই নেই তো সাধারণ লোক তো ছাড়! আজ হোক কাল হোক বাংলাদেশ একদিন আপনাকে সঠিক বলে মানতে বাধ্য হবে। তবে ততদিনে অনেক দেরি না হয়ে যায়।”

দেবজ্যোতি দত্ত লিখেছেন, “এটাই তো ধর্মের মহিমা।” অসিত বরণ চক্রবর্তী লিখেছেন, “সত্য কথা।” মাণিক সরকার লিখেছেন, “নিশ্চিত অদম্য সত্য উপস্থাপন।” ফারুক আহমেদ হিরা লিখেছেন, “কোনটা ভালো কোনটা মন্দ তাঁরা সবই জানেন। ওখানে শুধু সমাজটা মেনে চলেন।”

এস ঘোষ লিখেছেন, “যার সঙ্গে হৃদয়ের বা বিশ্বাসের যোগ নেই তার স্থিতি ততক্ষণ প্রয়োজন যতক্ষণ— এ আর নতুন কথা কী।

নারীপুরুষ নির্বিশেষে সব নির্বোধ ও ভীরুরাই এটা করে থাকে। একরোখা প্রতিবাদ করার মত মানুষ অঙ্গুলিমেয়।”অচিন্ত্য চৌধুরী লিখেছেন, “অনেকেরই গাত্রদাহ হবে আপনার এই অপ্রিয় সত্য কথা পড়লে।”

আরাফাত লিও তন্ময় লিখেছেন, “ইরানের প্রেসিডেন্টের জন্য রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। যে লোকের দেশে বাস করলেও দুজনকেই পাথর নিক্ষেপ করা হতো ঠিক মতো হিজাব না পরার কারণে, চুল দেখানোর কারণে।” ইউসুফ ভুইয়া লিখেছেন, “এটাই রাজনীতি। অথচ তারা চাইলেই নিজের ইচ্ছানুযায়ী ব্যবহার করে মনের তৃপ্তি অর্জন করতে পারতো দেশে থেকেই।”

সৌরভ সাহালিখেছেন, “ওরা বড্ড চতুর, ওরা সামনে থেকে সবাইকে দেখতে পায়, কিন্তু ওদের পেছন থেকে কেউ দেখতে পায় না।”

শামসুল আরাফিন মুকুল লিখেছেন, “বাংলাদেশে রাজনীতিবিদদের ইসলাম হচ্ছে ভোটের।”

প্রসঙ্গত, ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে ‘দ্য স্টেটসম্যান’ পত্রিকার এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইসলামি ধর্মীয় আইন শরিয়া অবলুপ্তির মাধ্যমে কুরআন সংশোধনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এর ফলে ইসলামপন্থীরা তার ফাঁসির দাবি জানাতে শুরু করে। তিন লাখ ইসলামপন্থীদের একটি জমায়েতে তাকে ইসলামের অবমাননাকারী সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দালালরূপে অভিহিত করে। দেশ জুড়ে তার শাস্তির দাবিতে সাধারণ ধর্মঘট ডাকা হয়। হাবিবুর রহমান সিলেটে একটি সমাবেশে তাঁর মাথার দাম ৫০ লাখ টাকা ঘোষণা করে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে জনগণের ধর্মীয় ভাবনাকে আঘাত করার অভিযোগে মামলা রুজু করা এবং জামিন-অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সেসময় তিনি দুই মাস লুকিয়ে থাকার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে তাঁর জামিন মঞ্জুর করা হয় এবং তসলিমা

বাংলাদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এর পর পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল আমলে তিনি এই রাজ্য থেকেও নির্বাসিত হন। তিনি বিভিন্ন সময় এ ব্যাপারে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ভূমিকা নিয়ে আক্ষেপ করেছেন।

হিন্দুস্থান সমাচার/ অশোক




 

 rajesh pande