প্রধানমন্ত্রী, আসুন, দেখে যান বেনজীর কীভাবে সংখ্যালঘুদের জমি দখল করেছেন : রানা দাশগুপ্ত
কিশোর সরকার ঢাকা, ৮ জুন (হি.স) : বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ‘সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচা
প্রধানমন্ত্রী, আসুন, দেখে যান বেনজীর কীভাবে সংখ্যালঘুদের জমি দখল করেছেন : রানা দাশগুপ্ত


কিশোর সরকার

ঢাকা, ৮ জুন (হি.স) : বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ‘সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কের’ নামে পুলিশের প্রাক্তন মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে হিন্দুদের ‘শত শত বিঘা’ জমি দখলের অভিযোগ এনেছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ওই এলাকা ঘুরে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কৃষির ওপর নির্ভরশীল ওই এলাকার মানুষদের জমি দখল করে ফেলায় তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে বিশাল অর্থনৈতিক সংকট নেমে এসেছে।

বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন গোপালগঞ্জের সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্ক এলাকা পরিদর্শন ও ভুক্তভোগী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে কথা বলার পর সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন রানা দাশগুপ্ত।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের এই নেতা বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এলাকাটি আপনারই। আপনি একবার এলাকায় আসুন, আপনি দেখে যান, কীভাবে এখানকার সংখ্যালঘুদের জায়গা-জমি জবরদখল করেছেন বেনজীর আহমেদ। আমরা দাবি ও আবেদন জানাই, যাঁদের সম্পত্তিগুলো দখল করা হয়েছে, তাঁদের সম্পত্তিগুলো ফেরত দেওয়া হোক।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৫ থেকে ২০২০ সালে র‌্যাবের মহাপরিচালক এবং ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আইজিপি থাকার সময়ে বেনজীর আহমেদ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৈরাগীটোল গ্রামে ৬২১ বিঘা (দুদকের তথ্য অনুযায়ী) জমির ওপর গড়ে তোলেন সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্ক। এ রিসোর্ট ও পার্কের সব জমি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁদের ভাষ্য, ভয় দেখিয়ে, জোর করে ও নানা কৌশলে জমি কেনা হলেও অনেক জমি দখল করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করে। পরে সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কসহ বিভিন্ন স্থাপনা জব্দের নির্দেশ দেন আদালত।

এলাকাটি শতভাগ হিন্দুপ্রধান মন্তব্য করে রানা দাশগুপ্ত বলেন, তাঁদের শত শত বিঘা জমি জোর করে, হুমকি দিয়ে, নানাভাবে চক্রান্ত করে বেনজীর দখল করে নিয়েছেন। শুধু দখলই করেননি, কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে এমনভাবে চারদিকে বেষ্টনী করেছেন, যাতে অন্য কেউ ওই জায়গায় প্রবেশ করতে না পারে।

র‌্যাবের মহাপরিচালক ও পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে বেনজীর আহমেদ যে ভূমিকা পালন করছেন, তা শুধু সরকারের ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন করেনি, গোটা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করেছে বলে মন্তব্য করেন রানা দাশগুপ্ত।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande