
দুর্গাপুর, ৯ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজোয় সাধারণত চার দিনই প্রতিমা থাকে। তবে বুদবুদের রনডিহা গ্রামের ব্রাহ্মণবাড়ীর দুর্গা প্রতিমা থাকে পুরো একুশ দিন। কালীপুজোর পরদিন দুর্গা ও কালী প্রতিমার একসঙ্গে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই ঐতিহ্য। প্রায় এক মাস জুড়ে এই পুজো ঘিরে আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠেন গোটা গ্রাম।
প্রায় ৫০০ বছর আগে স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই দুর্গাপুজোর সূচনা করেছিলেন সাধক অখিলেশ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই থেকে আজও ষোড়শ পচারে দেবী পূজিত হন এখানে। বর্তমানে দৌহিত্র সূত্রে চট্টোপাধ্যায়, বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখোপাধ্যায় ও ভট্টাচার্য পরিবার এই পুজোর দায়িত্ব সামলান। চট্টোপাধ্যায় পরিবারের প্রবীণ সদস্য কালিপদ চট্টোপাধ্যায় জানান, সপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান হয়, অষ্টমীতে কালো ছাগ বলি দিয়ে তার মাংস প্রসাদে দেওয়া হয়। নবমী থেকে প্রতিদিন ভোগে থাকে তিন সের এক পোয়া সেদ্ধ চাল, শাক, সুক্তো, ডাল, চাটনি ও রুই মাছের তরকারি। রাতে দেওয়া হয় লুচি-সবজি-শীতল।
প্রবীণ হিরালাল মুখোপাধ্যায় জানান, প্রতিমা তৈরি করেন পার্শ্ববর্তী শালডাঙা গ্রামের তারাপদ সূত্রধর পরিবারের সদস্যরা। এখানে ডাকের সাজ হয় না, কাঠামোয় পেরেক ব্যবহার নিষিদ্ধ। একবার দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনে অসুবিধা হওয়ায় স্বপ্নাদেশ আসে কালীপুজোর পরদিন যেন দুর্গা ও কালী প্রতিমা একসঙ্গে বিসর্জন হয়। তখন থেকে সেই প্রথা চালু আছে। কালী প্রতিমা যায় আগে, দুর্গা প্রতিমা পরে।
কালীপুজোর দিনও দুর্গাকে একইরকম ভোগ দেওয়া হয়। সেদিন দুটো ছাগ বলি হয় একটি মা দুর্গার, অন্যটি মা কালীর। ভোগে থাকে আতপ চালের ভাত, শাক, সুক্তো, কচু-কুমড়োর তরকারি, ডাল, চাটনি ও পায়েস। এই পুজো শুধু ধর্মীয় আচার নয়, একতারও প্রতীক। চট্টোপাধ্যায়, বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখোপাধ্যায় ও ভট্টাচার্য পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে মিলিত হয়ে চার দিন ভোগ রান্না করেন এবং একত্রে ভোজন করেন। শতাব্দীপ্রাচীন এই প্রথা আজও বজায় রেখেছে রনডিহা গ্রাম।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা