
ভুবনেশ্বর, ১২ মার্চ (হি.স.) : রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গ সফরের সময় তাঁর প্রতি হওয়া 'অসম্মানজনক' আচরণের অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। রাষ্ট্রপতি মুর্মু সম্প্রতি শিলিগুড়িতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লেখা চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী মাঝি উল্লেখ করেছেন যে, ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য কখনওই ব্যক্তিগত বা সাংবিধানিক পদের সম্মানকে ক্ষুণ্ণ করা উচিত নয়। তিনি জানান, অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় শেষ মুহূর্তে রদবদল— বিশেষ করে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সাথে জড়িত অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং তা সংবিধানের ভাবনার পরিপন্থী।
ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন যে, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ঠিক আগেই এই ঘটনাটি ঘটেছে, যা এর গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দেয়। কারণ রাষ্ট্রপতি মুর্মু নিজেই সাঁওতাল সম্প্রদায় থেকে আসা একজন সম্মানিত আদিবাসী মহিলা। মোহন চরণ মাঝির মতে, এই পুরো ঘটনায় দেশজুড়ে আদিবাসী, অনগ্রসর এবং দলিত সম্প্রদায়ের আবেগ ও অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। সাঁওতাল সম্প্রদায়ের সাথে নিজে যুক্ত থাকার কারণে এই ঘটনায় ব্যক্তিগতভাবে ব্যথিত হয়েছেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।
চিঠিতে তিনি আরও লিখেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গ তার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সভ্যতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধার জন্য পরিচিত। তাই এই ধরনের ক্ষেত্রে উচ্চতর মানদণ্ড অনুসরণ করা উচিত ছিল। এই ঘটনাটি যেমন লক্ষ লক্ষ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে, তেমনি পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তির ওপরও এক 'অপ্রয়োজনীয় ছায়া' ফেলেছে।
মোহন চরণ মাঝি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই বিষয়টি নিয়ে পুনর্বিবেচনা করতে এবং রাষ্ট্রপতি ও দেশের জনগণের কাছে দুঃখপ্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এমন পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক পদের মর্যাদার প্রতি দায়বদ্ধতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি