
কলকাতা, ২৪ মে (হি.স.): নির্বাচনে পরাজয়ের পর মুখ খুললেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার ফেসবুক লাইভে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে ধরলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর দাবি, ২২০ থেকে ২৩০টা আসন পাওয়ার কথা ছিল তৃণমূলের, কিন্তু ফল উল্টে দেওয়া হয়েছে। দলের কর্মীদের উপর অত্যাচার নিয়েও এদিন মুখ খোলেন মমতা। ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিশ্ববাংলা লোগো ভেঙে ফেলায়। তবে মমতা আশা প্রকাশ করেন তাঁরা ফের ফিরবেন। দলের কর্মীদেরও আশ্বস্ত করেন তিনি।
তৃণমূলনেত্রীর অভিযোগ, ক্ষমতাবলে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের উপর সন্ত্রাস চালাচ্ছে বিজেপি। তৃণমূলের নেতা-কাউন্সিলরদের গ্রেফতার করছে পুলিশ। ভোটের ফলপ্রকাশের ২০ দিন পর সমাজ মাধ্যমে মমতার বার্তা, ৪ তারিখে কাউন্টিং (গণনা) হয়েছে। আজ ২৪ তারিখ। এই ২০ দিন মুখ বুজে সহ্য করেছি। শুধু আমি নয়, বাংলার মানুষ থেকে তৃণমূলের কর্মীরা সহ্য করছেন। অনেকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বলি হয়েছেন। ১২ জন মানুষ মারা গিয়েছে। আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছেন। সকলকে জোর করে পদত্যাগপত্র লিখিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইলেক্টেড বডিগুলোকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। কলকাতা কর্পোরেশনের মতো বড় কর্পোরেশনের জল, রাস্তা-সহ বিভিন্ন উন্নয়নের কাজে বাধা আসছে।
মমতা বলেন, আমিও প্রশাসন চালিয়ে এসেছি। আমরা উর্দিধারীদের কখনও বলিনি এই সব কাজ করতে। আমরা ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে মোড়ে মোড়ে রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজিয়েছিলাম। আজ একটা মিটিং করতে গেলে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। প্রতি দিন আমাদের নির্বাচিত কাউন্সিলরদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। মিউনিসিপ্যালিটির ঘরগুলো গুন্ডারা দখল করছে। আড়াই হাজারের বেশি পার্টি অফিস লুম্পেনেরা দখল করেছে পুলিশকে সামনে রেখেই। মমতা এদিন প্রশ্ন তোলেন, এটা কি সত্যিই নির্বাচন হয়েছে না নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে? তাঁর কথায়, কাউন্টিং-ইভিএম মেশিনে রিগিং থেকে নির্বাচন কমিশনের অফিস থেকে ডাটা হ্যাকিং করা হয়েছে। বিজেপির লোকেরা সিআরপিএফের পোশাক পড়ে ঢুকে গেছে কাউন্টিং সেন্টারে। পরিকল্পিতভাবে মিডিয়াকে দিয়ে ২০০ আসনে বিজেপির জয়ের খবর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভবানীপুরের ফল প্রসঙ্গে মমতা বলেন, আমাকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে ঘরের বাইরে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যারা ডাটা সেন্টারে বসেছিল তাঁরা সবাই বিজেপির আইটি সেলের লোক ছিল বলে আমি শুনেছি। বলেন, জেতার জায়গায় হারা, হারার জায়গায় জেতা। এই পাশাটাই উল্টেছে ১৫০ আসনে, এটা না হলে আমরা ২২০ থেকে ২৩০ আসন পেতাম।
মমতা বলেন, আপনারা (বিজেপি) গড়তে পারেন না। আপনারা শুধু ভাঙতে জানেন। আমরা গড়ে এসেছি। আপনারা অনেক কিছু বন্ধ করে দিয়েছেন। মে মাসে কেউ লক্ষ্মীর ভান্ডার পায়নি। পরের মাস থেকে দু’ মাস, তিন মাস দেবে। তার পর অন্ধকার অন্ধকারেই থেকে যাবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ