
বাঁকুড়া, ২৪ মে (হি.স.) : জেলায় তৃণমূলের দুই প্রভাবশালী নেতা গ্রেফতার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ধৃতরা হলেন গঙ্গাজলঘাটি পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল নেতা পল্লব পাণ্ডে এবং বাঁকুড়া শহরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তথা এক তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী বাপি চক্রবর্তী। রবিবার দু’জনকেই বাঁকুড়া আদালতে তোলা হয়।
বাপি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোর করে তোলা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, পল্লব পাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়া, ভুয়ো নিয়োগপত্র দেওয়া এবং প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাপি চক্রবর্তী শনিবার গভীর রাতে বাঁকুড়া সদর থানায় আত্মসমর্পণ করেন। এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। গত ২০ মে প্রভাতরঞ্জন গুপ্ত নামে এক রং ব্যবসায়ী অভিযোগ দায়ের করে জানান, ২০২৩ সালে কেন্দুয়াডিহি এলাকায় নিজের জমিতে দোকান তৈরির সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন বাপি চক্রবর্তী। পরে তাঁর কাছ থেকে দুই লক্ষ টাকা তোলা দাবি করা হয়। অভিযোগকারীর দাবি, ভয় ও চাপের মুখে তিনি সেই টাকা দিতে বাধ্য হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাপি চক্রবর্তী এবং তাঁর স্ত্রী কাউন্সিলর পিংকি চক্রবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগকারী ব্যবসায়ীর দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এতদিন থানায় অভিযোগ জানানোর সাহস পাননি। সরকার পরিবর্তনের পর বিচার পাওয়ার আশায় তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন।
পুলিশ ধৃত বাপি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর একাংশের বক্তব্য, “এবার হয়তো এলাকায় শান্তি ফিরবে।”
অন্যদিকে, গঙ্গাজলঘাটির তৃণমূল নেতা পল্লব পাণ্ডেকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। অভিযোগ, সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক যুবকের পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে তিন লক্ষাধিক টাকা নেওয়া হয়। পরে ওই যুবকের হাতে একটি ভুয়ো নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। এমনকি তাঁকে পুরুলিয়ার একটি দপ্তরে কাজে যোগ দিতেও বলা হয়। কয়েকদিন কাজ করার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর নিয়োগপত্রটি জাল বলে চিহ্নিত করে।
পরিবারের অভিযোগ, চাকরির আশায় ধারদেনা করে টাকা জোগাড় করলেও শেষ পর্যন্ত প্রতারণার শিকার হতে হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন পল্লব পাণ্ডে।
পুলিশ জানিয়েছে, টাকা লেনদেন, ভুয়ো নিয়োগপত্র তৈরি এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট