
ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ২৪ মে (হি.স.) : উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগর পুর পরিষদের কাউন্সিলর রাহুল কিশোর রায়ের আত্মহত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেল ধর্মনগর থানার পুলিশ। মামলায় অভিযুক্ত সাতজনের মধ্যে কঙ্কন চৌধুরী নামে এক অভিযুক্তকে শনিবার গভীর রাতে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্তকে রবিবার আদালতে তোলা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধর্মনগর পুর পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রাহুল কিশোর রায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্ত্রী অনন্যা ভট্টাচার্য ধর্মনগর থানায় সাতজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে অভিযুক্তদের খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়।
ধর্মনগর থানার ওসি মিনা দেববর্মা জানান, অভিযুক্ত কঙ্কন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরেই আত্মগোপন করে ছিলেন। তাঁকে ধরতে পুলিশ ত্রিপুরার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। এমনকি গুয়াহাটিতেও তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু এতদিন তাঁর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে গোপন সূত্রে খবর আসে যে অভিযুক্ত নিজ বাড়িতে লুকিয়ে রয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাঁকে আটক করতে সক্ষম হয়।
ওসি আরও জানান, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্যও জোর তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ একাধিক দিক খতিয়ে দেখছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে ধর্মনগরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রাহুল কিশোর রায়ের ঝুলন্ত মৃতদেহ তাঁর নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা ধর্মনগর মহকুমায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এরপর মৃত কাউন্সিলরের স্ত্রী অনন্যা ভট্টাচার্য সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে তদন্তে গতি আসে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ