
শিলং, ৯ জুন (হি.স.) : মণিপুরের সেনাপতি জেলায় বন্দি ১৪ জন কুকি অসামরিক নাগরিকের মুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কঙ্খল সাংমা। তিনি এ ঘটনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সহায়ক হতে পারে।
আজ মঙ্গলবার ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)-র জাতীয় সভাপতি তথা মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কঙ্খল সাংমা এক বিবৃতিতে ১৪ জন কুকি নাগরিকের মুক্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার জন্য ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল, নাগা উপজাতীয় সংগঠন, নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংস্থা, সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
কনরাড সাংমা বলেন, এই সিদ্ধান্ত সহানুভূতি, মর্যাদা, পুনর্মিলন এবং মানবজীবনের প্রতি সম্মানের মূল্যবোধকে তুলে ধরে, যা দীর্ঘদিন ধরে নাগা সমাজ ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। বিবৃতিতে সাংমা বলেন, মণিপুরে দীর্ঘদিনের জাতিগত উত্তেজনা ও সংঘাতের দরুন যখন বিভিন্ন সম্প্রদায় সমস্যার মধ্যে রয়েছে, তখন এই পদক্ষেপ একটি আশার বার্তা দিয়েছে।
ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল ও বিভিন্ন নাগা সংগঠনের সংযম, প্রজ্ঞা এবং মানবিক নীতির প্রতি অঙ্গীকারের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই মুক্তি দেখিয়েছে, কঠিন পরিস্থিতিতেও শান্তি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি কুকি নাগরিক সমাজের সংগঠন, সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কাছে আবেদন জানান, যাতে তাঁরা একই মানবিক মনোভাব নিয়ে আটকে রাখা ছয়জন নাগা অসামরিক নাগরিককে অবিলম্বে ও নিঃশর্তে মুক্তি দেন।
তিনি বলেন, ১৪ জন কুকি নাগরিকের মুক্তি একটি মানবিক উদ্যোগ, যার মূল উদ্দেশ্য হলো নিরপরাধ সাধারণ মানুষ যেন সংঘাতের শিকার না হন। কনরাড সাংমা আশা প্রকাশ করেন, একই মনোভাবের ভিত্তিতে ছয়জন নাগা ব্যক্তিকেও নিরাপদে তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সাধারণ নাগরিকদের দীর্ঘদিন আটক রাখা হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও সম্প্রদায়গুলোর কষ্ট আরও বেড়ে যায় এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতি ও পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা ব্যাহত হয়। তিনি বলেন, বাকি বন্দিদের মুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ আস্থাবর্ধক পদক্ষেপ হবে, এগিয়ে নিয়ে যাবে মণিপুরে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াকে।
ন্যাশনাল পিপলস পার্টির শান্তি ও পুনর্মিলনের প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে কনরাড সাংমা বলেন, তাঁর দল আলাপ-আলোচনা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং জাতি, সম্প্রদায় বা ধর্ম নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সুরক্ষার লক্ষ্যে গৃহীত উদ্যোগকে সমর্থন করে যাবে।
তিনি সব পক্ষকে এই ইতিবাচক ঘটনাকে ভিত্তি করে স্থায়ী শান্তির জন্য একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংঘাতের সমাধান ও পুনর্মিলনের জন্য মানবিক মূল্যবোধ ও সহানুভূতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস