জয়পুরে অবৈধ বাজি মজুতকেন্দ্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণ-সহ অগ্নিকাণ্ড, শিশুসহ ৭ জনের মৃত্যু
জয়পুর, ৯ জুন (হি.স.) : রাজস্থানের জয়পুরে একটি অবৈধ বাজি মজুতকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও ধারাবাহিক বিস্ফোরণে শিশুসহ অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় আরও একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মঙ্গলবার সকালে খোহ নাগোরিয়ান থানার অন্তর্গত আয়েশা নগর
জয়পুরে অবৈধ বাজি মজুতকেন্দ্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণ-সহ অগ্নিকাণ্ড, শিশুসহ ৭ জনের মৃত্যু


জয়পুর, ৯ জুন (হি.স.) : রাজস্থানের জয়পুরে একটি অবৈধ বাজি মজুতকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও ধারাবাহিক বিস্ফোরণে শিশুসহ অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় আরও একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মঙ্গলবার সকালে খোহ নাগোরিয়ান থানার অন্তর্গত আয়েশা নগর তলাই এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আইটিআই কলেজ সংলগ্ন একটি আবাসিক এলাকায় বেআইনিভাবে বিপুল পরিমাণ বাজি ও দাহ্য সামগ্রী মজুত করা হয়েছিল। মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ আচমকাই সেখানে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ রূপ নেয় এবং একের পর এক বিস্ফোরণে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। ভিতরে থাকা বহু মানুষ বেরিয়ে আসার সুযোগই পাননি।

মৃতদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল ওয়াহিদ (৫০), বিলাল খান (৩০), সমীর (২০), আজিম খান ওরফে আবিদ, রাবিল কুরেশি-সহ সাতজন। দু’জনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। গুরুতর আহত নাসির আলিকে জয়পুরের সওয়াই মান সিংহ (এসএমএস) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের দাবি, তাঁর শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ অংশ পুড়ে গিয়েছে।

এসএমএস হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জন ডা. আর. কে. জৈন জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনা ছ’জনের মধ্যে দু’জনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বাকিদের চিকিৎসা শুরু হলেও পরে কয়েকজনের মৃত্যু হয়। অধিকাংশের শরীরের ৭৫ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গিয়েছিল।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বাড়িটির মালিক ইয়াকুব নামে এক ব্যক্তি। তিনি দিল্লির বাসিন্দা ফিরোজ নামে এক ব্যক্তির কাছে বাড়িটি ভাড়া দিয়েছিলেন। অভিযোগ, ফিরোজ এবং তাঁর সহযোগী ওয়াসিম ওই জায়গাটিকে বেআইনিভাবে বাজি মজুতের কাজে ব্যবহার করছিলেন। ঘটনার পর পুলিশ গোটা চত্বর সিল করে দিয়েছে।

জয়পুরের পুলিশ কমিশনার সচিন মিত্তল জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে এটি একটি বাজি মজুতকেন্দ্র বলেই মনে হচ্ছে। বাজি তৈরির কারখানা অন্য কোথাও পরিচালিত হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আবাসিক এলাকায় কীভাবে এই ধরনের বিপজ্জনক মজুতকেন্দ্র গড়ে উঠল, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। গাফিলতি বা যোগসাজশের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় বিপুল পরিমাণ বারুদ ও বাজি মজুত করা হচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা জল ও পাইপের সাহায্যে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কয়েকজনকে উদ্ধার করা গেলেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনের কারণে অনেককে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বিধায়ক আমিন কাজি অভিযোগ করেছেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এত বড় বাজি মজুতকেন্দ্র চললেও প্রশাসন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল হরিভাউ বাগড়ে, কৃষিমন্ত্রী কিরোড়ীলাল মীণা এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন তাঁরা।

ঘটনার কারণ, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন এবং বেআইনি মজুতকেন্দ্র পরিচালনার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পুলিশ, ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ এবং প্রশাসনের যৌথ তদন্ত শুরু হয়েছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande