
আগরতলা, ৯ জুন (হি.স.) : ত্রিপুরার অঙ্গনওয়াড়ি পরিষেবাকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তুলতে ১০০টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রকে ইংরেজি মাধ্যম কেন্দ্রে রূপান্তরিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫৬২টি কেন্দ্রকে ‘সক্ষম অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র’ হিসেবে উন্নীত করা হয়েছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য জানান সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দফতরের মন্ত্রী টিংকু রায়।
মন্ত্রী জানান, জনজাতি অধ্যুষিত এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী জনজাতি আদিবাসী ন্যায় মহা অভিযান এবং ধরতি আবা জনজাতি অভিযান প্রকল্পের আওতায় মোট ৩৪৫টি নতুন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত ৩,৫৫৯টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরে আরও ৫ হাজার কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারী-শিশু কল্যাণে সরকার একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। মুখ্যমন্ত্রী কন্যা বিবাহ যোজনায় চলতি অর্থবছরে ৪৫ জন উপভোক্তাকে ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বালিকা সমৃদ্ধি যোজনায় ১০৫ জন কন্যাশিশু উপকৃত হয়েছে। এছাড়া বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নতুন প্রকল্প চালু করে ৩,৪৯২ জনকে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে ২০ হাজার ২৭ জন দিব্যাঙ্গ ব্যক্তিকে মাসিক ২ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ২৯৪ জন উপভোক্তা মাসিক ভাতা পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪৬ হাজার ৯০৪ জনকে ১২ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকার বেশি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের প্রসঙ্গে টিংকু রায় বলেন, ত্রিপুরার কর্মীরা দেশের ২০টিরও বেশি রাজ্যের তুলনায় বেশি সাম্মানিক পান। এপ্রিল ও মে মাসের সাম্মানিক সংক্রান্ত জটিলতারও সমাধান হয়েছে। আগামী ১৪ থেকে ১৬ জুন রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে জনকল্যাণ শিবিরের মাধ্যমে নতুন চারটি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ