বৃষ্টির দাপটে বিপজ্জনক হাফলং–শিলচর সড়ক বান্দরখালে ধস, ব্যাহত যান চলাচল
হাফলং (অসম), ৮ আগস্ট (হি. স.) : লাগাতার ভারী বৃষ্টিতে ফের বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে ডিমা হাসাও জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ ২৭ নম্বর জাতীয় সড়ক। হাফলং–শিলচর সড়কের দলাইচুঙ্গা এলাকায় প্রবল বর্ষণের জেরে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। একই সঙ্গে বান্দর
বৃষ্টির দাপটে বিপজ্জনক হাফলং–শিলচর সড়ক বান্দরখালে ধস, ব্যাহত যান চলাচল


হাফলং (অসম), ৮ আগস্ট (হি. স.) : লাগাতার ভারী বৃষ্টিতে ফের বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে ডিমা হাসাও জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ ২৭ নম্বর জাতীয় সড়ক। হাফলং–শিলচর সড়কের দলাইচুঙ্গা এলাকায় প্রবল বর্ষণের জেরে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। একই সঙ্গে বান্দরখাল অংশেও পাহাড় থেকে মাটি ও পাথর ধসে সড়কের উপর নেমে আসায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষণ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে ডিমা হাসাও জেলার পাহাড়ি এলাকা গুলিতে লাগাতার বৃষ্টিপাত চলছে। প্রবল বৃষ্টির জেরে পাহাড়ের বিভিন্ন ঢাল নরম হয়ে যাওয়ায় ধসের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই মধ্যে হাফলং–শিলচর ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের দলাইচুঙ্গা ও বান্দরখাল এলাকায় ধস নামার ঘটনায় যাত্রী ও গাড়িচালকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। দলাইচুঙ্গা এলাকায় জাতীয় সড়কের পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। বৃষ্টির জেরে রাস্তার বিভিন্ন অংশে মাটি নরম হয়ে পড়েছে। পাহাড়ের ঢাল থেকে মাটি ও পাথর নেমে আসার আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে ওই এলাকা দিয়ে চলাচলকারী গাড়িগুলিকে যথেষ্ট সতর্কতার সঙ্গে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, বান্দরখাল অংশেও ধসের কারণে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটি ও পাথর রাস্তার উপর জমে যাওয়ায় কোথাও কোথাও সড়ক সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। এর ফলে যানবাহনের গতি কমে যাচ্ছে এবং কিছু সময়ের জন্য যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে। ভারী যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। হাফলং ও শিলচরের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের গুরুত্ব অপরিসীম। ডিমা হাসাও জেলার পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের মানুষও দৈনন্দিন যাতায়াত, চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহণের জন্য এই সড়কের উপর নির্ভরশীল। ফলে বর্ষাকালে সড়কের কোনও অংশে ধস নামলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের উপর। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বর্ষাতেই পাহাড়ি এই জাতীয় সড়কের বিভিন্ন অংশে ধস ও রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। কিন্তু লাগাতার ভারী বৃষ্টির সময় ধসপ্রবণ এলাকাগুলিতে পর্যাপ্ত নজরদারি ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে যে কোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে বৃষ্টির মধ্যে হঠাৎ পাহাড় থেকে মাটি-পাথর নেমে এলে গাড়িচালকদের পক্ষে তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দলাইচুঙ্গা, বান্দরখাল-সহ জাতীয় সড়কের ধসপ্রবণ এলাকাগুলিতে দ্রুত মাটি ও পাথর সরানো, রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে ভারী বৃষ্টির সময় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে প্রশাসন ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোরও দাবি জানানো হয়েছে। এদিকে, বৃষ্টি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকলে নতুন করে ধস নামার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে হাফলং–শিলচর জাতীয় সড়কে যাতায়াতকারী যাত্রী ও গাড়িচালকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাহাড়ি এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বর্ষার প্রকোপে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande