
দুর্গাপুর, ৯ সেপ্টেম্বর (হি.স.): গভীর জঙ্গলের ভেতর থেকে উদ্ধার হল একসঙ্গে চারটি মানুষের কঙ্কাল। হাড়হিম করা এই ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসা থানার মলানদিঘী বনাঞ্চল এলাকায়। কঙ্কালের পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে শিশুর চটি, লেডিস ব্যাগ এবং একটি নাইলনের ব্যাগ। উদ্ধার হওয়া জিনিসপত্র দেখে অনুমান করা হচ্ছে, কঙ্কালগুলি সম্ভবত একই পরিবারের সদস্যদের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র কাঁকসা ও দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে চরম চাঞ্চল্য ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে মলানদিঘীর জঙ্গলে স্থানীয় কিছু বাসিন্দা কাঠ কুড়োতে গিয়েছিলেন। জঙ্গলের নির্জন এলাকায় মানুষের একাধিক হাড়গোড় ও কঙ্কাল ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। খবর চাউর হতেই কাঁকসা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সমগ্র এলাকাটি ঘিরে ফেলে নির্দিষ্ট আইনি ও বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া মেনে কঙ্কাল ও অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করে।
উদ্ধার হওয়া কঙ্কালগুলি ঠিক কাদের, কতদিন ধরে সেখানে পড়েছিল এবং তাঁদের মৃত্যুর নেপথ্যে কোনো অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বা খুন জড়িত রয়েছে কি না—তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নের মুখ পড়েছে পুলিশ প্রশাসন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার রসপ্রীত সিং জানান, “প্রাথমিকভাবে চারটি কঙ্কালই মানুষের বলে শনাক্ত করা গিয়েছে। ফরেনসিক বিভাগের বিশেষজ্ঞ আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কঙ্কালগুলি উদ্ধার করেছেন। ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ, সময় এবং অতীতে হওয়া কোনো নির্দিষ্ট নিখোঁজ সংবাদের সঙ্গে এদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট বোঝা যাবে।”
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া কঙ্কালগুলি ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পুরোনো তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছে কাঁকসা থানার পুলিশ। জঙ্গলের ভেতর কোনো নৃশংস অপরাধের পর প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহগুলি সেখানে ফেলে রাখা হয়েছিল কি না, সমস্ত সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ প্রশাসন।
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা