राज्य

Blog single photo

কেমন হবে বিজেপি-র তালিকা, টানটান উত্তেজনায় অনেকেই

03/03/2021

অশোক সেনগুপ্ত

কলকাতা, ৩ মার্চ (হি স)। বিজেপি-র প্রার্থীতালিকা কখন প্রকাশ হবে? টানটান উত্তেজনায় অপেক্ষা করছেন ওঁরা। কেউ ছিলেন গত বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী! কেউ আনকোরা নতুন মুখ। অভিনেতা যশ দাশগুপ্ত নাকি ভোটের টিকিট পাওয়া নিশ্চিত জেনে যোগ দিয়েছেন বিজেপি-তে। অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের টিকিটপ্রাপ্তিও এক রকম নিশ্চিত। সদ্য বিজেপি-তে যোগ দেওয়া নায়িকা পায়েল সরকারকে নাকি দল প্রার্থী করবে বালুরঘাটে। আরও অন্তত তিন-চার জন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব আগ্রহী পশ্চিমবঙ্গে আগামী বিধানসভা ভোটে বিজেপি-র প্রার্থী হতে। আগ্রহীদের তালিকায় আছেন প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট, অধ্যাপক—বিভিন্ন পেশার মানুষ। ওঁদের অনেকেই দলের ওপরমহলে যে যাঁকে পেরেছেন সনির্বন্ধ অনুরোধ করে রেখেছেন। তালিকা প্রকাশের প্রাক্কালে অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় প্রায় সকলেই।
একসময় একটি বাংলা দৈনিকে সাংবাদিকতা করতেন সঙ্ঘমিত্রা চৌধুরী। সেই পেশা ছেড়ে রাজনীতিতে আসেন ক’বছর আগে। মহিলা মোর্চার সক্রিয় সদস্য হিসাবে নেতৃত্বের চোখে পড়েন। এক অর্থে হয়ে উঠেছিলেন মোর্চার তৎকালীন সভানেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী। গত বছর ঠাঁই পেয়েছেন দলের রাজ্য কমিটিতে। সঙ্ঘমিত্রা থাকেন যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্র এলাকার একটি ফ্ল্যাটে। আবেদনের তালিকায় তাঁর নাম  আছে যাদবপুর আর রায়দিঘিতে। সঙ্ঘমিত্রা অপেক্ষায় আছেন টানটান উত্তেজনা নিয়ে। বুধবার ‘হিন্দুস্থান সমাচার’-কে বললেন, ২০১৬-র বিধানসভা ভোটে দল প্রার্থী করেছিল রায়দিঘিতে। ‘১১-তে ওই আসনে বিজেপি পেয়েছিল হাজার তিন ভোট। সেটা ১২ হাজারে নিয়ে যেতে পেরেছিলাম। এবার দল কোথায় প্রার্থী করবে বুঝতে পারছি না। বিভিন্ন কেন্দ্রে অনেকে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করছেন। দেখা যাক! এমনিতেই তো প্রতিদিন বিভিন্ন জেলায় সভায় বক্তৃতা করতে যেতে হচ্ছে। প্রার্থীর দায়িত্ব পেলে তো চরকির মত ছুটতে হবে! রাতের ঘুমই উড়ে যাবে!"
সূত্রের খবর, যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিবেচনার তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডক্টরেট মোহিত রায়ের নাম। ’১৬-র ভোটেও এই কেন্দ্রের প্রার্থী ছিলেন। অনুপ্রবেশের বিপজ্জনক পরিণাম নিয়ে প্রচুর লেখালেখি করেছেন, বক্তৃতা দিয়েছেন নানা সভায়। নেতাজী ইন্ডোরে অমিত শাহর উদ্বাস্তু বিষয়ক সভার মঞ্চে পেয়েছিলেন সম্মানের আসন। তিনি প্রহর গুনছেন চূড়ান্ত ঘোষণার জন্য। ‘হিন্দুস্থান সমাচার’-কে বললেন, “প্রচারের সময় তো খুব বেশি নেই। এবারের পরিস্থিতি অন্যরকম। নাম ঘোষণা হোক! দেখা যাক!"
এভাবেই দক্ষিণ সোনারপুর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হওয়ার আশা মনোরঞ্জন জোয়ারদারের। ‘১৬-র ভোটেও প্রার্থী হয়েছিলেন এই কেন্দ্রে। পেশায় বঙ্গবাসী কলেজের ইতিহাসের অধ্যাপক। কিসের ভিত্তিতে প্রার্থী হতে চান? ‘হিন্দুস্থান সমাচার’-কে বললেন, “ক্লাশ নাইন থেকে ভারত সেবাশ্রমের সঙ্গে আমি যুক্ত। গোসাবার একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলাম। প্রায় আজীবন যুক্ত গ্রামেগঞ্জে সমাজসেবার সঙ্গে। এ ছাড়াও তৈরি করেছি ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন সমিতি‘। দক্ষিণ ২৪ পরগণায় জাতীয়তাবাদের প্রসারে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছি। অজস্র সভা-সমাবেশ করেছি। এ সব দল নিশ্চয়ই বিবেচনা করছে!“
প্রার্থী হওয়ার আশায় রয়েছেন দক্ষিণ কলকাতার মিতালি সাহা। বিজেপি-র রাজ্য কমিটির এক বরিষ্ঠ আধিকারিক ২০১৬-র বিধানসভা ভোটে মিতালিকে প্রার্থী হতে বলেছিলেন। এ কথা জানিয়ে ‘হিন্দুস্থান সমাচার’-কে মিতালি বললেন, “প্রার্থী হতে পারলে খুশি হব। তবে, এবার আশা করাটাও দুঃসাহস। শুনছি ৪৬ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১২০টি আসনে প্রার্থী হবেন আরএসএস, বজরং দল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বনবাসী কল্যাণ আশ্রম প্রভৃতি সংগঠনের মনোনীতরা। তালিকা অনেক দিন আগেই তৈরি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কারা তাতে আছেন, মানে শেষ পর্যন্ত কে যে টিকিট পাবেন, বা পাবেন না, সম্ভবত অমিত শাহ ছাড়া কেউ সঠিক জানেন না।"
এভাবেই, টিকিট-প্রত্যাশীদের তালিকায় আছেন একটি বহুল প্রচারিত বাংলা দৈনিকের প্রাক্তন সাংবাদিক দিবাকর রায়। মুকুল রায়ের অন্যতম স্নেহধন্য দিবাকরের জনসংযোগ রয়েছে বিভিন্ন মহলে। এটাই তাঁর প্রথম ভোটনৌকোয় চড়ার চেষ্টা। প্রার্থী হওয়ার অপেক্ষায় আছেন আদতে হুগলির বলাগড়ের, অধুনা বারাসতের বীথিকা মন্ডল। তবে, এখনই ওঁরা প্রচারমাধ্যমে মুখ খুলতে রাজি নন। সময় যত এগোচ্ছে, বাড়ছে কৌতূহল। কলকাতা থেকে কেউ কেউ ফোনে দিল্লিতে খোঁজ নিচ্ছেন, “কোনও খবর এল?”

হিন্দুস্থান সমাচার।


 
Top