কেন্দ্রের পর দেশের প্রথম রাজ্য অসমে চালু হবে অষ্টম পে কমিশন, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্বের
- ‘আমার সরকারকে যাঁরা মুসলিম-বিরোধী বলে মনে করেন, তাঁদের ধারণা বদলানো আমার দায়িত্ব নয়’ : মুখ্যমন্ত্রী - আসন্ন অসম বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-র প্রধান দুটি থিম, ‘পরিচয় রক্ষা’ এবং ‘উন্নয়ন’ : হিমন্তবিশ্ব গুয়াহাটি, ১ জানুয়ারি (হি.স.) : কেন্দ্রের প
‘নতুন দিনর বার্তালাপ’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা


- ‘আমার সরকারকে যাঁরা মুসলিম-বিরোধী বলে মনে করেন, তাঁদের ধারণা বদলানো আমার দায়িত্ব নয়’ : মুখ্যমন্ত্রী

- আসন্ন অসম বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-র প্রধান দুটি থিম, ‘পরিচয় রক্ষা’ এবং ‘উন্নয়ন’ : হিমন্তবিশ্ব

গুয়াহাটি, ১ জানুয়ারি (হি.স.) : কেন্দ্রের পর দেশের মধ্যে অসম হবে অষ্টম পে কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত গ্ৰহণকারী প্রথম রাজ্য। আজ বৃহস্পতিবার এই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা।

আজ ইংরেজি নববর্ষ ২০২৬ সালের প্রথম দিন কইনাধরা পাহাড়ে রাজ্য অতিথিশালায় তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে রাজ্যের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিভিন্ন পত্ৰিকা এবং ইলেক্ট্ৰনিক মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে ‘নতুন দিনর বার্তালাপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিগত বছরগুলিতে তাঁর সরকারের কার্যকলাপ ও আগামীদিনের পদক্ষেপ এবং আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির রণকৌশল ইত্যাদি সম্পর্কে বহু তথ্য পেশ করছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা।

অনুষ্ঠানে জনৈক সাংবাদিকের এক জিজ্ঞাসার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমার সরকারকে যাঁরা মুসলিম-বিরোধী বলে মনে করেন, তাঁদের ধারণা বদলানো আমার কাজ নয় এবং দায়িত্বও নয়।’

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার অষ্টম পে কমিশন গঠন করেছে। কিন্তু তার পর এখন পর্যন্ত দেশের কোনও রাজ্য সরকার পে কমিশন গঠন করেনি। এ ক্ষেত্রে অসম দেশের প্রথম রাজ্য হতে চলেছে। অসমের অষ্টম পে কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে প্রাক্তন অতিরিক্ত মুখ্যসচিব সুভাষ দাসকে।’

এই সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় অষ্টম পে কমিশনের সুপারিশ আজ থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, আগেভাগে রাজ্য পে কমিশন গঠন করলে অসম সরকারের কর্মচারীদের বেতন সংশোধন ও পরিষেবা সংক্রান্ত শর্তাবলি সময়মতো কেন্দ্রীয় কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা সম্ভব হবে। কর্মচারী কল্যাণের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে এই সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি সরকারের প্রশাসনিক প্রস্তুতির প্রতিফলন।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, অসম সরকার সর্বশেষ ২০১৫ সালে একটি পে কমিশন গঠন করেছিল, যা রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো, ভাতা ও পরিষেবা শর্তাবলি পর্যালোচনা করেছিল। নতুন কমিশনটি পরিবর্তিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন কেন্দ্রীয় সংশোধনের প্রেক্ষিতে একই ধরনের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে।

এদিকে অন্য প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা বলেন, রাজ্যের আদিবাসী তথা ভূমিপুত্ৰদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি সার্বিক ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তাঁর সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বরাবরের মতো আজও তিনি বলেন, ভূমিপুত্রদের অধিকার ও পরিচয় সুরক্ষিত না থাকলে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

অবৈধ অভিবাসন প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা বলেন, ‘যাদের বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের রাজ্য থেকে বহিষ্কার করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশনার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, আইনগতভাবে কাউকে বিদেশি ঘোষণা করা হলে সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিক্ট কমিশনার তাকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।’

ড. শর্মা বলেন, ‘এখন নমনীয় নীতির আর কোনও অবকাশ নেই। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, একবার কাউকে বিদেশি ঘোষণা করা হলে তাকে বহিষ্কারের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া যেতে পারে।’

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অসমে চলমান উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি নির্বিঘ্নে চলতে থাকবে। উন্নয়নের সুফল সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ রাজ্য সরকারের কর্মসূচির অবিচ্ছেদ্য অংশ’, দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন তিনি।’

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে হিমন্তবিশ্ব শর্মা বলেন, নতুন বছরের তাঁর সংকল্প হলো অসমে বিজেপির টানা তৃতীয় মেয়াদ নিশ্চিত করা। তিনি আশা ব্যক্ত করে বলেন, পরিচয় রক্ষা ও উন্নয়নের যুগল অ্যাজেন্ডা রাজ্যের মানুষের সমর্থন পাবে।

অন্যদিকে তাঁর সরকার মুসলিম-বিরোধী বলে একটি মহল থেকে উত্থাপিত অভিযোগ খারিজ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মুসলিম-বিরোধী কিনা, কিংবা মুসলিম-বিরোধী নই, মানুষকে এটা বোঝানো কী আমার কাজ? এটা আমার কাজ নয়। আমার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে রাজ্য পরিচালনা করা, আমার প্রশাসনের আদর্শগত অবস্থান বজায় রাখা। বিরোধী বা বহিঃরাজ্যের মানুষজনের ধারণা বদলানো আমার কাজ নয়।’

অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ‘মিয়াঁ’দের বিরুদ্ধে নয়, সামগ্রিকভাবে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বলে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে সে সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যাদের অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে মনে করি সে ব্যাপারে সমালোচকদের কাছে আলাদা করে ব্যাখ্যা দেওয়ার কোনও বাধ্যবাধকতা আমার নেই। আমার কাজ হলো অসম এবং দেশের জন্য কাজ করা। আমাদের একটি স্পষ্ট আদর্শগত অবস্থান রয়েছে, আমরা আমাদের আদর্শগত বিষয়াবলি নিয়েই কথা বলি।’

ড. শর্মা বলেন, ‘বাস্তব পরিস্থিতির ভিত্তিতে আমার সরকারের কাজের মূল্যায়ন হওয়া উচিত। মানুষকে অসমে এসে দেখতে হবে, আমরা কীভাবে দরিদ্র ও পশ্চাদপদ মানুষের জন্য কাজ করছি।’ তিনি আরও বলেন, তাঁর প্রশাসনের গৃহীত একাধিক সিদ্ধান্ত সরাসরি মুসলিম মহিলাদের উপকারে এসেছে। বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে রাজ্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই পদক্ষেপটি মুসলিম সমাজের মধ্যেই ব্যাপকভাবে স্বাগত পেয়েছে। আমরা যখন বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করেছি, তখন মুসলিম মহিলারাই সবচেয়ে খুশি হয়েছেন।’

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande