
কলকাতা, ১২ জানুয়ারি (হি. স.) : সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে অবস্থিত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি দফতরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হলো। সোমবার থেকেই কমপ্লেক্সের প্রধান প্রবেশদ্বারগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সংখ্যা উল্লেখ্যযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সিজিও কমপ্লেক্সের দুটি প্রধান গেটে এখন থেকে ১২ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন থাকবে। প্রতি গেটে ৬ জন করে জওয়ান পাহারায় থাকবে। আগে এই গেটগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও জওয়ানের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম। অনেক সময় মাত্র এক-দুজন জওয়ানকে পাহারায় দেখা যেত।
নিরাপত্তা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে সরকারিভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া না হলেও, ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা— গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার আই-প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও দফতরে ইডি-র ম্যারাথন তল্লাশিকে কেন্দ্র করে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তার জেরেই এই সিদ্ধান্ত।
উল্লেখ্য, ওইদিন ইডি আধিকারিকরা যখন সেক্টর-ফাইভের আই-প্যাক দফতরে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন, তখন সেখানে পৌঁছেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর উপস্থিতির পর থেকেই ভবনের বাইরে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। তল্লাশি শেষে ইডি আধিকারিকরা যখন বের হচ্ছিলেন, তখন তাঁদের বিক্ষোভ ও স্লোগানের মুখে পড়তে হয়। সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি এড়াতেই সিজিও কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অতীতে সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি-র পাশাপাশি সিবিআই-এর দফতরও ছিল। সেই সময় সিআরপিএফ জওয়ানদের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। কিন্তু গত বছরের এপ্রিল মাস নাগাদ সিবিআই দফতর অন্যত্র স্থানান্তরিত হওয়ার পর থেকে গেটের নিরাপত্তা শিথিল করা হয়েছিল। বর্তমান রাজনৈতিক ডামাডোল এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির সাম্প্রতিক তৎপরতার কথা মাথায় রেখে ফের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হল।
এখন থেকে সিজিও কমপ্লেক্সে প্রবেশ করতে হলে সাধারণ মানুষকে আরও কড়া নজরদারির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। মূলত ‘অবাঞ্ছিত’ জমায়েত রোখাই এখন কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি