চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র, আটক ৬ জন
​মালদা, ১৩ জানুয়ারি (হি. স.) : মালদা জেলার চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসার গাফিলতিতে এক প্রসূতি ও তাঁর সন্তানের মৃত্যুর অভিযোগে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে মালদা জেলার চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। সোমবার সন্ধ্যায় ক্ষুব্ধ পরিজনেরা হাসপাতা
চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র, আটক ৬ জন


​মালদা, ১৩ জানুয়ারি (হি. স.) : মালদা জেলার চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসার গাফিলতিতে এক প্রসূতি ও তাঁর সন্তানের মৃত্যুর অভিযোগে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে মালদা জেলার চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। সোমবার সন্ধ্যায় ক্ষুব্ধ পরিজনেরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গেও তাঁদের ধস্তাধস্তি হয়। সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে পুলিশ প্রসূতির পরিবারের ৬ সদস্যকে আটক করেছে।

জানা গেছে, ​মৃতার নাম শাহনাজ খাতুন (২৭)। তিনি চাঁচল থানার খরবা গ্রাম পঞ্চায়েতের জসুয়া এলাকার বাসিন্দা। সোমবার সকাল ৮টা নাগাদ প্রসব বেদনা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। পরিবারের অভিযোগ, সকালের দিকে চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন যে স্বাভাবিক প্রসব হবে। কিন্তু দুপুর ১টা নাগাদ হঠাৎ অপারেশনের কথা বলা হয়। অভিযোগ, সেই প্রক্রিয়া শুরুর কিছুক্ষণ পরেই মা ও শিশুর মৃত্যু হয়।

শাহনাজের স্বামী আশরাফুল হক জানান, তাঁর আগের দুটি সন্তানের জন্ম স্বাভাবিকভাবেই হয়েছিল। হাসপাতালে সঠিক সময়ে চিকিৎসক না থাকায় তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতার ভাই আব্বাস আলীর অভিযোগ, লেবার রুমে অ্যানাস্থেটিস্ট থাকলেও কোনও সার্জন বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না।

​হাসপাতালের সুপার শামীম আখতার গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, প্রসব বেদনা শুরু হওয়ার অনেক দেরিতে রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। সিজারের প্রস্তুতির সময়ই ওই মহিলা হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং তাতেই মৃত্যু ঘটে।

​মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই রোগীর আত্মীয়রা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। হাসপাতালের মূল গেট বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযোগ, টেবিল-চেয়ার ছুড়ে ভাঙচুর করার চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে চাঁচলের এসডিপিও সোমনাথ সাহার নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এই সময় পুলিশের সঙ্গেও আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি হয়। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

​মঙ্গলবার জেলা স্বাস্থ্য দফতরের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল হাসপাতালে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। ডিউটি রোস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং চিকিৎসার নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে হাসপাতালের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পরিষেবা স্বাভাবিক করা হয়েছে। অন্যদিকে, মৃতার পরিবার স্বাস্থ্য দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande