
গুয়াহাটি, ১৩ জানুয়ারি (হি.স.) : প্রয়াত প্রখ্যাত অসমিয়া গায়ক কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ভারতরত্ন ড. ভূপেন হাজরিকার কনিষ্ঠ ভাই সমর হাজরিকা। মকর সংক্রান্তির আগের দিন, আজ মঙ্গলবার সকাল ০৮:৪৫টায় গুয়াহাটির নিজরাপাড়ায় নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বাৰ্ধক্যজনিত রোগে আক্ৰান্ত সংগীতশিল্পী সমর হাজরিকা। এর আগে ৭৫ বছর বয়সি সমর হাজরিকা গুয়াহাটির হায়াত হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এর পর প্রায় দুসপ্তাহ তিনি নিজের বাড়িতেই ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে এবং অসংখ্য অনুরাগী ও গুণমুগ্ধকে। মন্ত্ৰী বিমল বরা তাঁর মৃত্যতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
১৯৬০ সালে সংগীতজীবন শুরু করে বহু অসমিয়া চলচ্চিত্রে কণ্ঠদান করেছেন সমর হাজরিকা। অসমিয়া চলচ্চিত্রে নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে কণ্ঠদান করে ভিন্ন এক অন্য মাত্রা প্রদান করেছিলেন তিনি। যে কয়টি অসমিয়া চলচ্চিত্রে তিনি কণ্ঠদান করেছেন সেগুলির মধ্যে অন্যতম বোয়ারি, প্রভাতী পাখির গান, উপ পথ প্রভৃতি। তাঁর কণ্ঠে প্রায় সবকটি গানই শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
তিনি শুধু একজন গায়কই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দক্ষ বিচারকও। অসমের বিভিন্ন প্রান্তে অনুষ্ঠিত সংগীত প্রতিযোগিতায় তিনি বিচারকের আসন অলংকৃত করেছিলেন। সমর হাজরিকা আকাশবাণী গুয়াহাটির একজন নিয়মিত সংগীতশিল্পী ছিলেন।
এছাড়া বিভিন্ন কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বহু শিল্পীর উত্থানে সমর হাজরিকা অনন্য অবদান রেখে গেছেন। সংগীতের সুর-তাল-লয়, শব্দের প্রক্ষেপণ ও উচ্চারণের বিষয়ে তিনি অত্যন্ত সজাগ ও সচেতন ছিলেন। সমর হাজরিকা ভারতীয় খাদ্য নিগমের একজন কর্মচারীও ছিলেন।
এছাড়া বেশ কয়েকটি অ্যালবামও প্রকাশ করেছেন তিনি। ১৯৬৮ সালে প্ৰকাশিত তাঁর প্ৰথম অ্যালবামের নাম ছিল ‘উত্তর কোঁওর প্ৰতিমা বরুয়া দেবী’। তাঁর সুমধুর কণ্ঠ ও সৃজনশীল প্রতিভা তাঁকে অসমের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক অন্যতম জনপ্রিয় এবং সম্মানিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল।
প্রয়াতের মরদেহ প্রথমে আকাশবাণী গুয়াহাটি চত্বরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান আকাশবাণী গুয়াহাটির সকল কর্মী ও শিল্পীরা। সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় সারা অসম দীপক সংঘ-এর কাৰ্যালয়ে। শেষে রাজ্য মৰ্যাদায় নবগ্ৰহ শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
অত্যন্ত মৃদুভাষী, সৌম্য এবং পরিশীলিত জীবনের অধিকারী মহান এই শিল্পী অসমের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছিল। সমর হাজরিকার প্রয়াণে রাজ্যের সাংস্কৃতিক অনুরাগী ও সংগীত জগতের মানুষজন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই বলছেন, তাঁর গান আজও নস্টালজিয়া জাগায়। অসমের সংগীত ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে রয়েছে তাঁর গান।
সমর হাজরিকা আজ সশরীরে না থাকলেও, তাঁর কালজয়ী সৃষ্টিসমূহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে বলেই বিশ্বাস করেন তাঁর অনুরাগীরা। তাঁর প্রয়াণ অসমের সংগীত জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি করেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস