
আগরতলা, ১৩ জানুয়ারি (হি.স.) : হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন লোকসংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে ত্রিপুরা সরকার সচেষ্ট—এ কথা জানালেন কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতনলাল নাথ। মঙ্গলবার লঙ্কামুড়ার আলপনা গ্রামে তিন দিনব্যাপী আলপনা ও পিঠেপুলি উৎসব -এর উদ্বোধন করে তিনি বলেন, লোকগীতি, পল্লিগীতি, বাউল সংগীত, যাত্রাপালা, নাটক ও কীর্তনের মত শিল্পধারা আমাদের স্বকীয় সংস্কৃতির অঙ্গ। বর্তমান প্রজন্ম যত বেশি এই সংস্কৃতির চর্চা ও সংরক্ষণ করবে, ততই রাজ্য ও দেশ উপকৃত হবে। এই উৎসব চলবে আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত।
তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে আগরতলা পুর নিগম, পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদ, পূর্ত দফতর, গ্রামোন্নয়ন দফতর ও সংস্কার ভারতী (ত্রিপুরা প্রান্ত)-এর সহযোগিতায় এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী ভাষণে মন্ত্রী বলেন, আলপনা ও পিঠেপুলি উৎসব হচ্ছে মাটি ও প্রকৃতির উৎসব। আধুনিকতার সঙ্গে ঐতিহ্যের সুন্দর মেলবন্ধন ঘটিয়ে আলপনা গ্রাম আজ দেশ-বিদেশে পরিচিতি পেয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ডিজিটাল ও আধুনিক হওয়ার পাশাপাশি নিজস্ব শেকড় ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখলেই দেশ প্রকৃত অর্থে এগুবে। মহিলা, কৃষক, যুবক ও গরিব—এই চার শ্রেণির উন্নয়নেই দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কৃষি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কৃষকরাই দেশের অন্নদাতা ও সমাজের ভিত্তি। কৃষকদের সার্বিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী কিষাণ, পিএম কুসুম ও প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনার মত প্রকল্প কার্যকর করা হয়েছে। রাজ্যের স্বসহায়ক দলগুলির প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, আগের সরকারের সময়ে যেখানে ৪,১৬০টি স্বসহায়ক দল ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪,৬২৭টিতে, সদস্য সংখ্যা পাঁচ লক্ষেরও বেশি। গত সাত বছরে স্বসহায়ক দলগুলিকে রিভলবিং ফান্ডে ৭৫ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ও পানীয়জলের উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তবে সমাজের বড় শত্রু ড্রাগস—এ থেকে যুব সমাজকে দূরে রাখার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার এবং প্রাক্তন বিধায়ক ডাঃ দিলীপ দাস। স্বাগত বক্তব্য দেন তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সহ-অধিকর্তা অমৃত দেববর্মা। উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, মেয়র ইন কাউন্সিল জগদীশ দাস, একাধিক কর্পোরেটর, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উপ-অধিকর্তা জয়দীপ দেববর্মা, বিশিষ্ট সমাজসেবী রাজীব সাহা প্রমুখ।
উৎসবে মোহনপুর বিধানসভা থেকে স্বউদ্যোগে তৈরি ২১ প্রকার পিঠেপুলি দর্শকদের মধ্যে বিতরণ করেন কৃষিমন্ত্রী। সংস্কার ভারতীর শিল্পীদের পরিবেশনায় বন্দেমাতরম সংগীত অনুষ্ঠানকে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকে আলপনা গ্রামে নিয়মিতভাবে এই উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ