
অমরপুর (ত্রিপুরা), ১৩ জানুয়ারি (হি.স.) : ছোট রাজ্য ত্রিপুরায় আমরা সবাই একসঙ্গে থাকতে চাই। তবেই গড়ে উঠবে এক ত্রিপুরা, শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা—এ কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গোমতী জেলার করবুকের তীর্থমুখে দু’দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী পৌষ সংক্রান্তি মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তীর্থমুখ পৌষ সংক্রান্তি মেলা ত্রিপুরাবাসীর কাছে গর্বের বিষয়। এই মেলার একটি সুপ্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে। প্রতিবছর হাজার হাজার পুণ্যার্থী এই পবিত্র দিনের অপেক্ষায় থাকেন। পৌষ সংক্রান্তির দিনে পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ ও পূণ্য স্নানের জন্য শুধু রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই নয়, প্রতিবেশী রাজ্য থেকেও অসংখ্য মানুষ এখানে এসে সমবেত হন। আক্ষরিক অর্থেই এই মেলা জাতি ও জনজাতির মিলনক্ষেত্র।
তিনি আরও বলেন, যারা ভগবানকে বিশ্বাস করেন, তাঁদের কাছে পৌষ সংক্রান্তি একটি অত্যন্ত পবিত্র দিন। এই দিনে সূর্যদেবের উদ্দেশ্যে আরাধনা করা হয়ে থাকে। মকর সংক্রান্তি ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন নামে পালিত হলেও তীর্থমুখের পৌষ সংক্রান্তি মেলার ঐতিহাসিক গুরুত্ব আলাদা।
রাজ্যের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি রক্ষার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের সব জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি এবং রাজ্য সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করে চলেছে। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে রাজ্য আরও এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, মেলা মানেই মিলনক্ষেত্র।
মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশের ধর্মীয় স্থানগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এরই অঙ্গ হিসেবে মাতা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরকে নতুন রূপে সাজানো হয়েছে। এর ফলে সেখানে পুণ্যার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, যুগের পর যুগ নানা শাসক ভারত শাসন করলেও দেশের মূল কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করা যায়নি—এটাই ভারতের ঐতিহ্য। ভারত সনাতন সংস্কৃতির দেশ। রাম মন্দির এই দেশের বিশ্বাস ও আস্থার প্রতীক। স্বামী বিবেকানন্দ ভারতবর্ষের ধর্মীয় সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছিলেন, আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সেই ধারাবাহিকতাতেই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষায় কাজ করে চলেছেন।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের পর থেকে এই অঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে, যার সুফল রাজ্যেও মিলছে। জনজাতিদের উন্নয়নে বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর জনজাতি সমাজপতিদের ভাতা চালু করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁরা মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন। ২০১৮ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত রাজ্যের জনজাতি গোষ্ঠীর সাতজনকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সমবায় মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া বলেন, তীর্থমুখ পৌষ সংক্রান্তি মেলা জাতি ও জনজাতিদের ঐক্যের প্রতীক। এই মেলার গুরুত্ব দিন দিন আরও বাড়ছে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে এই মেলার গরিমা বজায় রাখতে হবে। বিধায়ক সঞ্জয়মানিক ত্রিপুরা বলেন, আগামী দিনে এই মেলাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গোমতী জেলার জেলাশাসক রিঙ্কু লাখের। সভাপতিত্ব করেন করবুক বিএসি’র ভাইস চেয়ারম্যান প্রণব ত্রিপুরা।অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক রঞ্জিত দাস, এমডিসি কংজং মগ, জনজাতি কল্যাণ দফতরের সচিব ডঃ কে. শশী কুমার, গোমতী জেলার পুলিশ সুপার ডাঃ কিরণ কুমার কে., করবুকের মহকুমা শাসক শ্যামজয় ত্রিপুরা প্রমুখ।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ