
সুকমা, ১৪ জানুয়ারি (হি. স.) : ছত্তিশগড়ের দণ্ডকারণ্য এলাকায় মাওবাদী দমনে ফের বড়সড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। বুধবার সুকমা জেলার গোগুন্ডা এলাকায় দর্ভা ডিভিশনের সশস্ত্র ক্যাডারের ২৯ জন মাওবাদী একসঙ্গে আত্মসমর্পণ করেছেন। একইসঙ্গে তাঁরা নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছেন বেশ কিছু অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র। চলতি বছরে সুকমা জেলায় এটিই বৃহত্তম আত্মসমর্পণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিন সুকমার পুলিশ সুপার কিরণ চহ্বাণ জানিয়েছেন, আত্মসমর্পণের সময় মাওবাদীরা ১০টি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে, ৩টি একে-৪৭ রাইফেল, ১টি এসএলআর, ৩টি ইনসাস রাইফেল, ২টি ৩০৩ রাইফেল, ১টি ৩০ কার্বাইন রাইফেল।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গোগুন্ডা এলাকায় নতুন সুরক্ষা ক্যাম্প স্থাপনের ফলে সেখানে স্থায়ী নিরাপত্তা ও উন্নয়নের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সরকারের পুনর্বাসন নীতিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে এবং পুলিশের ক্রমাগত চাপে কোণঠাসা হয়েই এই সশস্ত্র ক্যাডাররা মূলস্রোতে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সিআরপিএফ-এর ৭৪তম ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট হিমাংশু পাণ্ডে বলেন, সরকারের সুরক্ষা, বিশ্বাস এবং উন্নয়নের ত্রিমুখী কৌশলের মাধ্যমেই নকশালবাদের অবসান সম্ভব হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ আত্মসমর্পণকারী ও পুরস্কার
আত্মসমর্পণকারীদের তালিকায় গোগুন্ডা পঞ্চায়েতের ডিএকেএমএস সভাপতি পোড়িয়াম বুধরা রয়েছেন, যাঁর মাথার ওপর সরকারের পক্ষ থেকে ২ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। এছাড়া তালিকার অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় সদস্যদের মধ্যে গোগুন্ডা পঞ্চায়েত ডিএকেএমএস সহ-সভাপতি হেমলা মঙ্গড়ু এবং মিলিশিয়া ডেপুটি কমান্ডার মড়কম হিড়মা ও হেমলা হড়মার নাম উল্লেখযোগ্য।
প্রসঙ্গত, পুলিশের পক্ষ থেকে সক্রিয় মাওবাদীদের প্রতি আবেদন জানানো হয়েছে যে, হিংসার পথ ছেড়ে সম্মানজনক জীবন যাপনের জন্য তাঁরা যেন সরকারের এই উন্নয়নমূলক অভিযানের অংশীদার হন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি