
নয়াদিল্লি, ১৫ জানুয়ারি (হি স): আইপ্যাক-এর ইডি-র মামলায় সুপ্রিম কোর্টে বৃহস্পতিবার শুনানি শুরু হয়। সওয়াল জবাবের শুরুতেই ইডি-র তরফে আদালতে আবেদন জানানো হয়, যখনই তদন্ত চলছে, মুখ্যমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করছেন। এ ক্ষেত্রে আগের একাধিক ঘটনা উল্লেখ করে ইডি।
শুরুতেই সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা একেবারে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ডিজি রাজীব কুমার ও অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে সওয়াল করেন, যাঁরা সেদিন উপস্থিত ছিলেন। তুষার মেহেতার বক্তব্য, একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক কীভাবে উর্দি পরে সেদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তল্লাশির মাঝে ঢুকেছিলেন? ফাইল যখন খতিয়ে দেখছিল ইডি, তিনি কীভাবে সেটা সেখান থেকে নিয়ে আসেন?
মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা, ফাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। কেবল মুখ্যমন্ত্রী নয়, সিপি, ডিজি-র বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়।
প্রসঙ্গত, স্থানীয় থানায় প্রথমে ইডি গিয়েছিল, সেখান থেকে অনুমতি নিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। তারপরও তল্লাশির মাঝে কেন সেখানে পুলিশের বিশাল বাহিনী উপস্থিত হয়? সলিসিটর তুষার মেহেতার বক্তব্য, রাজীব কুমার-সহ ওই সমস্ত পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হোক।
গত শুক্রবার হাইকোর্টে মামলা চলাকালীন এজলাসে হট্টগোলের প্রসঙ্গও এদিন সুপ্রিম কোর্টে উল্লেখ করেন তুষার মেহেতা। ইডির বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী সেদিন পাঁচশো লোককে নিয়ে গিয়েছিলেন। ইডি-র বক্তব্য, তদন্তের মাঝে এইভাবে হস্তক্ষেপ, এটা একটা প্যাটার্নে পরিণত হয়েছে। যখনই কারওর বিরুদ্ধে তদন্ত হবে, তখনই হইহট্টগোল করে, গোটা বিষয়টাই ভন্ডুল করে দেওয়া হবে।
তুষার মেহেতার বক্তব্য, কেবল ইডি তল্লাশি করলেই নয়, এমন দৃষ্টান্ত হয়েছে, সিবিআই যখন তদন্ত করছিল, সিবিআই আধিকারিকদের গ্রেফতার পর্যন্ত করা হয়েছিল। তাহলে তদন্তকারীদের মনোবল কোথায় গিয়ে পৌঁছয়? তদন্তকারীরা বিচারবিভাগীয় নির্দেশ পেয়েই তল্লাশি যাচ্ছেন, তারপরও কেন এই ধরনের ঘটনা? সুপ্রিম কোর্টের সামনে একগুচ্ছ প্রশ্ন রাখেন তুষার মেহেতা।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত