ছাতনা–মুকুটমনিপুর রেলপথ চালুর আশায় বাঁকুড়াবাসী
বাঁকুড়া, ২০ জানুয়ারি (হি.স.) : মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে জেলায় দু’দফায় রেল পরিষেবা সম্প্রসারণ হওয়ায় খুশি বাঁকুড়াবাসী। গত ১৮ জানুয়ারি বিষ্ণুপুর–তারকেশ্বর রেলপথে ট্রেন চলাচল ময়নাপুর থেকে বাড়িয়ে জয়রামবাটি পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। এর ফলে বাঁকুড়া–ময়নাপু
ছাতনা–মুকুটমনিপুর রেলপথ চালুর আশায় বাঁকুড়াবাসী


বাঁকুড়া, ২০ জানুয়ারি (হি.স.) : মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে জেলায় দু’দফায় রেল পরিষেবা সম্প্রসারণ হওয়ায় খুশি বাঁকুড়াবাসী। গত ১৮ জানুয়ারি বিষ্ণুপুর–তারকেশ্বর রেলপথে ট্রেন চলাচল ময়নাপুর থেকে বাড়িয়ে জয়রামবাটি পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। এর ফলে বাঁকুড়া–ময়নাপুর লোকাল ট্রেনটি এখন জয়রামবাটি পর্যন্ত চলাচল করছে।

এর আগে গত ৩০ জুন বাঁকুড়া–মশাগ্রাম রেল পরিষেবা হাওড়া পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। সেই থেকেই এই রুটে পুরুলিয়া–হাওড়া লোকাল ট্রেন নিয়মিত চলাচল করছে। জেলাবাসীদের একাংশের মতে, এই দুই রেল পরিষেবা সম্প্রসারণে বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁয়ের অবদান গুরুত্বপূর্ণ।

তবে জেলার আরও একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে—ছাতনা–মুকুটমনিপুর রেলপথ। প্রায় দুই দশক ধরে আটকে থাকা এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রাম—তিন জেলার জঙ্গলমহল এলাকার অর্থনৈতিক চিত্রই বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। কিন্তু জমি সংক্রান্ত জটিলতা নাকি অর্থ বরাদ্দের অভাব—ঠিক কী কারণে প্রকল্পটি থমকে আছে, তা আজও স্পষ্ট নয়। এই নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসক দলের মধ্যে পরস্পর দোষারোপ চলছেই।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে রেল মন্ত্রক বাঁকুড়ার ছাতনা থেকে মুকুটমনিপুর পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদন করে। সমীক্ষার পর রেল কর্তৃপক্ষ রাজ্য সরকারের কাছে ৮০০ একর জমির আবেদন জানায়। ২০০৯ সালে তৎকালীন বাম সরকার সেই জমির মধ্যে ৫১৭ একর অধিগ্রহণ করে রেলের হাতে তুলে দেয়। জমি পাওয়ার পর রেল কর্তৃপক্ষ কাজও শুরু করে এবং ওই বছরই প্রস্তাবিত রেলপথের ভেদুয়াশোল স্টেশনের শিলান্যাস হয়, বাঁকুড়ার তৎকালীন সাংসদ ও রেলওয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান বাসুদেব আচারিয়ার উদ্যোগে।

তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই প্রকল্পের কাজ কার্যত থমকে যায়। নতুন করে জমি অধিগ্রহণ বা অর্থ বরাদ্দ হয়নি, বন্ধ রয়েছে রেললাইন বসানোর কাজও।

জেলাবাসীদের দাবি, এই গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্প কেন আটকে রয়েছে, তা প্রকাশ্যে আনা হোক এবং বিষয়টি নিয়ে বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ সক্রিয় উদ্যোগ নিন। যদিও সৌমিত্র খাঁ জানিয়েছেন, জেলার যেকোনও উন্নয়নমূলক কাজে তিনি আন্তরিকভাবে পাশে আছেন এবং থাকবেন।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট




 

 rajesh pande