
কলকাতা, ২০ জানুয়ারি (হি. স.) : বেতন ও পেশন প্রদান পদ্ধতি এবং কার্যনির্বাহী পরিষদে (ইসি) শিক্ষক-প্রতিনিধি মনোনয়নের ব্যাপারে শিক্ষক-কর্মীদের দাবি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মেনে নিল বলে দাবি করেছে সেখানকার শিক্ষক সংগঠন ‘জুটা’।
‘জুটা’-র সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় জানান, শেষ পর্যন্ত এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের অন্যান্য সদস্যদের সমর্থনে আমাদের নায্য দাবিকে মান্যতা দেয়। কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে উপাচার্য এও জানান যে সিদ্ধান্তগুলি গৃহীত এবং নিশ্চিত করা হল। এর ফলে এইচআরএমএস, ডিপিপিজি-র মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় যাচ্ছে না। ৩০ জানুয়ারির মধ্যে ইসি-তে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরুর নোটিশ দেওয়ার কথাও জানানো হয়।
এই সঙ্গে তিনি বলেন, “'স্থানীয়ভাবে এই দাবি পূরণ হলেও রাজ্যের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী-পেনশনার-আধিকারিকদের ঐক্য মঞ্চ ' করে পেনশন, মাইনের অধিকার রক্ষা করতেই হবে। যুক্ত মঞ্চ থেকে জানানো হয় যে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন, নিজের চাকরির নায্য আইনি অধিকার কোনও মূল্যেই হরণ করতে দেওয়া যাবেনা। উচ্চশিক্ষা দফতরের এই তুঘলকি ফরমানের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার কথাও উঠে আসে।
পার্থবাবু এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “কয়েকমাস ধরেই রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘এইচআরএমএস’
(হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম)-এর মাধ্যমে বেতন এবং ‘ডিপিপিজি’-র (ডিরেক্টরেট অফ পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড এন্ড গ্র্যাচুইটি) মাধ্যমে পেনশন চালু করতে চাইছে।
মঙ্গলবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক -শিক্ষাকর্মী-আধিকারিক ও পেনশনপ্রাপকরা এর বিরুদ্ধে এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলে স্মারকলিপি দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতেই পেনশন ও বেতনের অনুমোদন রাখার দাবিতে প্রায় পাঁচশো জন উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির যে শর্ত ও আইন মেনে তাঁরা চাকরিতে এসেছেন, সেখানে এই পদ্ধতি লাগু বে-আইনি এবং অনৈতিক।
বিশ্ববিদ্যালয় যতক্ষণ না এই মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্ট্যাটুটারি প্রভিসনে’ যে পদ্ধতি চালু আছে তাই বহাল থাকবে, ততক্ষণ অবস্থানের কথা জানানো হয়। একইসঙ্গে ২০১২ সালের আইন মোতাবেক ইসি সহ সর্বত্র শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়।
এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের কাছে দাবি জানানো হলে উপাচার্য বিষয়গুলি আলোচনার আশ্বাস দেন। তবে, উচ্চশিক্ষা সংসদের প্রতিনিধি বারংবার বাধাদানে তা ব্যাহত হয়।প্রায় সাড়ে তিনশো শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী-পেনশনার্স-আধিকারিকরা সিদ্ধান্ত না হওয়া অবধি অনড় থাকেন।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত