
দুর্গাপুর, ২০ জানুয়ারি (হি.স.) : ফর্ম–৭ জমা দেওয়াকে ঘিরে দলীয় বিএলএ কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে মঙ্গলবার দুর্গাপুরে তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়ল বিজেপি। জুতো হাতে বিক্ষোভ দেখিয়ে মহকুমাশাসক দফতর ঘেরাও করেন বিজেপিকর্মীরা। ঘটনায় মহকুমাশাসক ভবনের সামনে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশবাহিনী।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় রাজ্যে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এস আই আর) প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর সন্দেহজনক ভোটারের নামে ফর্ম–৭ জমা নেওয়া নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ উঠেছে। বিজেপির অভিযোগ, কমিশনের অধীনস্ত কিছু কর্মী পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। সোমবার ছিল ফর্ম–৭ জমা দেওয়ার শেষ দিন। অভিযোগ, ওইদিন দুপুরে দুর্গাপুর মহকুমাশাসকের দফতরে ফর্ম জমা দিতে গেলে গেটের মুখে তৃণমূল কর্মীরা বিজেপিকর্মীদের বাধা দেয় ও হামলা চালায়। লাঠির আঘাতে বেশ কয়েকজন বিজেপিকর্মী আহত হন বলে দাবি। এর পরেই বিজেপিকর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে মহকুমাশাসক দফতরের সামনে ও জাতীয় সড়ক অবরোধ করে।
অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশ ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কমব্যাট ফোর্স ও র্যাপ নামানো হয়। অভিযোগ, পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় বিজেপিকর্মীদের উপর বলপ্রয়োগ করা হয়। ওই ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।
এরই প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুর্গাপুর এডিডিএ ভবন থেকে মিছিল করে মহকুমাশাসক দফতরের সামনে পৌঁছন বিজেপিকর্মীরা। সেখানে মহিলা কর্মীরা জুতো হাতে বিক্ষোভে সামিল হন।
বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই বলেন, “মহকুমাশাসক দফতরে তৃণমূল কর্মীদের দখল কেন থাকবে? প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ। মহকুমাশাসকের অপসারণ চাই।”
দুর্গাপুর–বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভানেত্রী মনীষা শিকদার বলেন, “পুলিশ এখন তৃণমূলের দলদাসে পরিণত হয়েছে। গতকালের ঘটনার মধ্য দিয়েই তা প্রমাণিত। পুলিশের এই অমানবিক আচরণের প্রতিবাদেই আমাদের জুতো হাতে বিক্ষোভ।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনও উত্তেজনা রয়েছে। পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রেখেছে পুলিশ ও প্রশাসন।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা