দাভোসে ডব্লিউইএফ-এর বার্ষিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব, অসমে ১ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ-প্রতিশ্রুতি
দাভোস, ২১ জানুয়ারি (হি.স.) : সুইজারল্যান্ডের দাভোসে চলমান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)-এর বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে গত তিনদিনে ২০ জনের বেশি শিল্পপতির কাছ থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা অসমে ১ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ-প্রত
ভারাহ গ্রুপের সিওও ইকারুস জানজেনের সঙ্গে করমর্দন


শিল্পপতি আন্দ্রেস পেনাতের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী


ফ্রেডেরিক ডি ওয়াইল্ড সহ অন্যদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী


দাভোস, ২১ জানুয়ারি (হি.স.) : সুইজারল্যান্ডের দাভোসে চলমান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)-এর বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে গত তিনদিনে ২০ জনের বেশি শিল্পপতির কাছ থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা অসমে ১ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ-প্রতিশ্রুতি আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন।

এই সাফল্যকে অসমের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংযোগের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক বলে অভিহিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা। আজ বুধবার বিশ্ব অর্থনৈতিক মঞ্চের বাৰ্ষিক সম্মেলনে অংশগ্ৰহণকারী বিশ্বস্তরীয় একাধিক শিল্পপতির সঙ্গে মউ চুক্তি সম্পাদনের পর এখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা বলেন, দাভোসে অসমের উপস্থিতি অত্যন্ত শিক্ষণীয়। এই উপস্থিতি অসম সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য এক উদীয়মান বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিশ্ব মঞ্চে অংশগ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ-প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। গত তিনদিনে ২০-এর বেশি প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতির সঙ্গে অসম কীভাবে উদ্যোগগুলির বৃদ্ধি এবং উন্নতির জন্য বিভিন্ন উল্লম্ব জুড়ে একটি অনন্য সুযোগ প্রদান করে সে সম্পর্কে আমাদের মতবিনিময় হয়েছে।

তিনি বলেন, এই আলোচনা আগামীতে ফল দেবে। অসমের অর্থনৈতিক অগ্রগতি প্রসঙ্গে হিমন্তবিশ্ব বলেন, এ মুহূর্তে অসম দেশের দ্রুততম বিকশিত রাজ্যগুলির মধ্যে অন্যতম। গত পাঁচ বছরে ধারাবাহিকভাবে প্রায় ১৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে অসম। আগামী দিনেও একইভাবে এগিয়ে যাওয়ার আশা করছেন তিনি।

ড. শর্মা বলেন, দাভোস সম্মেলনের প্রথম দিন থেকে দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত অসম সরকার বিভিন্ন বৈশ্বিক সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেছে। একাধিক ক্ষেত্রে অসমকে কেন্দ্র করে প্রবল আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। বলেন, আগামী তিন থেকে চার বছর ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রাখলে এই বৈশ্বিক আগ্রহকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অসমে বিনিয়োগের মূল লক্ষ্য হলো রাজ্যের বিদ্যুৎ-শক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উচ্চমূল্যের ক্ষেত্রগুলি যেমন জ্বালানি, সবুজ জ্বালানি, সৌর শক্তি সংরক্ষণ, হাইড্রোকার্বন, সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক্স। তিনি বলেন, অসমের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে জ্বালানি খাত বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

তিনি বলেন, মানুষ এখন শুনছে, বোঝার চেষ্টা করছে এবং অসমে কীভাবে বিনিয়োগ করা যায় তা জানতে চাইছে। অসমকে জাতীয় অর্থনৈতিক মানচিত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ধারাবাহিক সমর্থনই রাজ্যকে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে। তিনি আশাবাদী, এক লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি অসমের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বৃদ্ধির জন্য একটি শক্ত ভিত গড়ে দিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্ৰী হিমন্তবিশ্ব বলেন, ‘অসমের স্বপ্ন প্রতিদিন নতুন ডানা মেলছে। আগামী কয়েক দিনে রাজ্যের উন্নয়নযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করতে অর্থবহ আলোচনা ও চুক্তির অপেক্ষায় রয়েছি।’ প্ৰসঙ্গত, দাভোসে অসমের উপস্থিতি ভারতের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অতীতে সাধারণত দেশের অর্থনৈতিকভাবে অগ্রসর রাজ্যগুলিকেই এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্মেলনে তুলে ধরা হতো। এ বছর প্রথম সেই তালিকায় স্থান পেয়েছে অসম, যাকে রাজ্যের আর্থিক রূপান্তরের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সম্মেলনে ১৭-এর বেশি শিল্পপতির সঙ্গে তাঁর বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে, রয়েছে একাধিক মউ চুক্তিতে স্বাক্ষরের সম্ভাবনা, জানান মুখ্যমন্ত্রী। হিমন্তবিশ্ব জানান, তাঁর আলোচ্যসূচির মধ্যে রয়েছে, উদীয়মান শিল্পের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, ১০ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের পর্যটন সম্ভাবনা এবং স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন। এছাড়া সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সামনে অসমের প্রশাসনিক সংস্কার, শিল্প সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন উদ্যোগ তুলে ধরছেন বলে জানান তিনি।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম একটি অলাভজনক সংস্থা, যা বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্মেলনের আয়োজন করে। চলতি বছরের সম্মেলনে প্রায় ৫০টি দেশ অংশগ্রহণ করেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরদার করাই এবারের মূল লক্ষ্য। সম্মেলনে ভূ-রাজনীতি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, আর্থিক নীতি ও বিনিয়োগ কৌশল নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হচ্ছে বলে সূত্রের খবরে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, দাভোসে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে অংশগ্ৰহণকারী হিমন্তবিশ্ব শর্মাই প্রথম কোনও অসমিয়া মুখ্যমন্ত্রী, যা রাজ্যের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে মনে করা হচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande