
লোয়ার সুবনসিরি (অরুণাচল প্রদেশ), ২১ জানুয়ারি (হি.স.) : অরুণাচল প্ৰদেশের লোয়ার সুবনসিরিতে দুটি ‘অবৈধ’ মসজিদ নির্মাণের প্রতিবাদে আহূত বন্ধে স্বাভাবিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
অরুণাচল প্রদেশের লোয়ার সুবনসিরি জেলার অন্তর্গত পুরাতন জিরোর সুলুয়া এবং হাপোলির পেরে আমি এলাকায় দুটি ‘অবৈধ’ মসজিদ নির্মাণের প্রতিবাদে ‘এসটি বাঁচাও আন্দোলন কমিটি’ (জিরো ইউনিট) আহূত ২৪ ঘণ্টার বনধ-এর ফলে জেলার বিভিন্ন অংশে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
লোয়ার সুবনসিরির পুলিশ সুপার কেনি বাগরা জানান, ‘এসটি বাঁচাও আন্দোলন কমিটি’ আহূত ভোর পাঁচটা থেকে আজকের বন্ধ শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল, সরকারি-বেসরকারি অফিসে উপস্থিতি ছিল কম এবং রাস্তায় যানবাহনের চলাচলও ছিল খুবই সীমিত।
পুলিশ সুপার জানান, এখন পর্যন্ত জিরো উপত্যকা থেকে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ বন্ধ কৰ্মসূচি পালন করতে প্রতিবাদকারীরা জেলার সাধারণ ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন।
তিনি জানান, প্রতিবাদকারীরা দুটি নির্মীয়মাণ মসজিদ ভেঙে ফেলার দাবি জানিয়েছেন। এর একটি ‘ওল্ড জিরোর সুলুয়া’ এলাকায় এবং অন্যটি ‘হাপোলির পেরে আমি’ এলাকায়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, এই নির্মাণগুলির যথাযথ নথিপত্র নেই। জমি-মালিকদের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির ভিত্তিতে কাজ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করছে এসটি বাঁচাও আন্দোলন কমিটি।
পুলিশ সুপার আরও জানান, জিরোর বুক চিরে ধাবিত জাতীয় সড়ক অবরোধ করেননি আন্দোলনকারীরা। এই সড়কটি কামলে ও আপার সুবনসিরি জেলায় যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ।
এদিকে জেলা প্রশাসনের জনৈক আধিকারিক জানিয়েছেন, বন্ধ সত্ত্বেও পঞ্চম শ্রেণি, অষ্টম শ্রেণির রাজ্য প্রি-বোর্ড পরীক্ষা এবং দশম শ্রেণির প্রি-বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার লোয়ার সুবনসিরির ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি কমিশনার হাগে তারুং ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর ১৬৩ ধারা বলে কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। আহূত বন্ধকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন জেলাশাসক তারুং।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস