
কলকাতা, ২১ জানুয়ারি (হি. স. ) : ভোটার তালিকায় বেআইনি ভাবে নাম তোলার দায়ে কেন্দ্রীয় নির্দেশের পরেও রাজ্য সরকার ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। এর পর দিল্লি থেকে নবান্নতে চিঠি দিয়েও লাভ হয়নি। এবার দিল্লি থেকে কড়া নির্দেশ এল নবান্নে।
অভিযুক্ত চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যের মুখ্যসচিবের থেকে তা নিয়ে রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের নির্দেশ কেন দফতর কার্যকর করেনি, সেই বিষয়েও রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। সেই জন্য ২৪ জানুয়ারি বিকেল ৫টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে পাঠানো কমিশনের তরফে।
অভিযোগ উঠেছিল পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্বের ইআরও এবং এইআরও পদের দায়িত্বে থাকা চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত দেবোত্তম দত্তচৌধুরী, বিপ্লব সরকার, তথাগত মণ্ডল এবং সুদীপ্ত দাসের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।
ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে ২০২৫ সালে ৫ অগস্ট ওই চার জন অফিসারকে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করেছিল কমিশন। তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করার কথাও বলা হয়েছিল। এর পরের দিন ঝাড়গ্রামের একটি সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ভোট যেহেতু দোরগোড়ায়, তাই সেই সময় থেকেই কমিশন অফিসারদের ভয় দেখাচ্ছে। এর পরে কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করা নিয়ে টানাপড়েন শুরু হয়।
বেআইনি ভাবে ভোটার তালিকায় নাম তোলার অভিযোগে এই চার সরকারি আধিকারিককে সাসপেন্ড করে নবান্ন। কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে কমিশনের এফআইআর করার নির্দেশ কার্যকর করা হয়নি বলে অভিযোগ। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে এই চার জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন।
তা কার্যকর না হওয়ায় গত ২ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট দুই জেলার জেলাশাসককে (জেলা নির্বাচনী আধিকারিক) এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হয় কমিশনের তরফে। কিন্তু এর পরেও সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ।
বরং এফআইআর-এর নির্দেশ প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়ে সিইও দফতরে চিঠি দেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের স্পেশাল কমিশনার।। সেখানে ‘লঘু দোষে গুরু দণ্ড’-র প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়।
সূত্রের খবর, রাজ্যের সিইও দফতর ওই চিঠিটি দিল্লিতে কমিশনের কাছে পাঠিয়েছিল। কিন্তু তার পরেও নিজের অবস্থানে অবিচল রইল কমিশন।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত