
গদগ, ২১ জানুয়ারি (হি.স.) : কর্ণাটকের গদগ তালুকের ঐতিহাসিক লাকুন্ডি গ্রামে সরকারি উদ্যোগে প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের খননকাজ চলছে। খননের সময় একের পর এক প্রাচীন নিদর্শন পাওয়ায় গ্রামে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে| তবে একইসঙ্গে মন্দির চত্বর সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী গ্রামবাসীদের মধ্যে সম্ভাব্য উচ্ছেদ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।
বুধবার সরকারি সূত্রে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদের সম্ভাবনার কথা সামনে আসার পর লাকুন্ডির বিভিন্ন অংশে খনন শুরু হয়। বিশেষ করে নাগনাথ মন্দির সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী ১৮টিরও বেশি পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তাঁদের দাবি, বহু প্রজন্ম ধরে তাঁরা ওই এলাকায় বসবাস করছেন এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও বিকল্প জমি না দিলে স্থানান্তর মেনে নেবেন না।
গ্রামবাসীদের বক্তব্য, “সমপরিমাণ জমি ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ না পেলে আমরা আমাদের বাড়ি ছাড়ব না।”
এদিকে, লাকুন্ডি দুর্গের ভিতরে বীরভদ্রেশ্বর মন্দির সংলগ্ন খননকাজ বুধবার ষষ্ঠ দিনে পড়েছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ও লাকুন্ডি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে এই কাজ চলছে।
ইতিমধ্যেই খননে মিলেছে একাধিক প্রাচীন কাঠামো, পাথরের শিল্পকর্ম ও স্থাপত্যের অংশ, যা লাকুন্ডির সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক অতীতের সাক্ষ্য বহন করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার একটি প্রাচীন পানিপীঠ (আসন)।
প্রথমে এটি শিবলিঙ্গের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হলেও, পীঠের উপর খোদাই করা গরুড় চিহ্ন দেখে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এটি বিষ্ণু বা কেশব দেবের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। গরুড়ের সুখাসন মূর্তিযুক্ত এই পানিপীঠটি (আসন) দ্বাদশ-ত্রয়োদশ শতকের বলে অনুমান করা হচ্ছে।
প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, এই নিদর্শন কল্যাণ চালুক্য শাসনামলের বিখ্যাত কেশবাদিত্য মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। ঐতিহাসিকভাবে তা প্রমাণিত হলে, লাকুন্ডির ধর্মীয় ও স্থাপত্য ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হিসেবে বিবেচিত হবে।
খননকাজ যত এগোচ্ছে, ততই লাকুন্ডির অতীতের নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হওয়ার আশা বাড়ছে। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীদের অধিকার, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও মানবিক পুনর্বাসন নীতির দাবিও জোরদার হচ্ছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য