ত্রিপুরা পূর্ণ রাজ্য দিবসে উন্নয়নের জন্য সবার সহযোগিতা চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা
আগরতলা, ২১ জানুয়ারি (হি.স.) : উন্নয়নের জন্য সবার সহযোগিতা অপরিহার্য। ত্রিপুরার সার্বিক উন্নয়নের প্রশ্নে চ্যালেঞ্জিং মনোভাব নিয়ে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। বুধবার রাজধানীর রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে অনুষ্ঠিত
ত্রিপুরা পূর্ণ রাজ্য দিবসের অনুষ্ঠান


আগরতলা, ২১ জানুয়ারি (হি.স.) : উন্নয়নের জন্য সবার সহযোগিতা অপরিহার্য। ত্রিপুরার সার্বিক উন্নয়নের প্রশ্নে চ্যালেঞ্জিং মনোভাব নিয়ে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। বুধবার রাজধানীর রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রিপুরা পূর্ণ রাজ্য দিবসের রাজ্যভিত্তিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি একথা বলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৫৬ সালের নভেম্বরে ত্রিপুরা আইনসভাহীন একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৩ সালের জুলাই মাসে রাজ্যে নির্বাচিত মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। ১৯৭১ সালের ২১ জানুয়ারি উত্তর-পূর্বাঞ্চল পুনর্গঠন আইন অনুসারে ত্রিপুরা পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা লাভ করে। সেই ঐতিহাসিক দিনটির স্মরণে প্রতিবছর ২১ জানুয়ারি পূর্ণ রাজ্য দিবস উদযাপন করা হয়।

এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বুধবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী রতন লাল নাথ, পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রী কিশোর বর্মন, রাজ্যের মুখ্য সচিব জে.কে. সিনহা, মুখ্যমন্ত্রীর সচিব পি.কে. চক্রবর্তী, রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক অনুরাগ ধ্যানকর প্রমুখ। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পূর্ণ রাজ্য স্বীকৃতি প্রাপ্তির পেছনে যাঁদের অবদান রয়েছে, তাঁদের স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানান। তিনি রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের উন্নয়নের পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, দেশের মধ্যে ত্রিপুরা তৃতীয় সর্বাধিক সাক্ষর রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে জিএসডিপিতে ত্রিপুরার স্থান দ্বিতীয় এবং পার ক্যাপিটা আয়ের নিরিখে অসমের পরেই রয়েছে ত্রিপুরা।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ত্রিপুরাই দেশের একমাত্র ডিজিটাল রাজ্য, যার ফলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজ্যে জাতীয় সড়কের দৈর্ঘ্য পূর্বে ছিল মাত্র ১৯৮ কিলোমিটার, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২৩ কিলোমিটারে।

রাজ্যের উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইতিবাচক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের পর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের নতুন রূপ দেখা গেছে। এর আগে অনেক রাজ্যের মধ্যে বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি কাজ করত। স্বামী বিবেকানন্দ তথা নরেন্দ্রনাথ যে আদর্শ দেখিয়ে গিয়েছিলেন, সেই পথেই আরেক নরেন্দ্র দেশকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে রাজ্যের বিভিন্ন সম্মান প্রদান করা হয়। প্রয়াত শিক্ষাবিদ ধীরেন্দ্র চন্দ্র দত্তকে মরণোত্তর ত্রিপুরা বিভূষণ সম্মান প্রদান করা হয়। রাজ্য বিধানসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রয়াত বিশ্ববন্ধু সেনকে ত্রিপুরা ভূষণ সম্মানে ভূষিত করা হয়। বিশিষ্ট চিত্রনাট্য লেখক বিপ্লব গোস্বামীকে শচীন দেববর্মন স্মৃতি রাজ্য সম্মান এবং বিশিষ্ট লোকশিল্পী সূর্য কুমার দেববর্মাকে মহারানী কাঞ্চন প্রভা দেবী স্মৃতি সম্মান প্রদান করা হয়।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande