
শিলিগুড়ি, ২১ জানুয়ারি (হি. স.): নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) রেলওয়ে স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে ‘নিউ শিলিগুড়ি রেলওয়ে স্টেশন’ করার দাবি এবার আরও জোরালো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবীদের একাংশ এই দাবিতে সরব হয়েছেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, নিউ চ্যাংরাবান্ধা স্টেশন চ্যাংরাবান্ধার কাছে বা নিউ ময়নাগুড়ি স্টেশন ময়নাগুড়ির পাশেই অবস্থিত। কিন্তু নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনটির নামে ‘জলপাইগুড়ি’ থাকলেও তা জলপাইগুড়ি শহর থেকে প্রায় ৪০-৪৫ কিলোমিটার দূরে। অথচ স্টেশনটি শিলিগুড়ি কর্পোরেশনের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। শিলিগুড়ি শহর থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৫ কিলোমিটার। উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার এই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনটির নামে পার্শ্ববর্তী জেলার নাম থাকায় পর্যটকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায় বলে অভিযোগ।
কথাশিল্পী বিপুল দাস জানান, শুরু থেকেই তিনি এই নামকরণের বিরোধী। স্টেশনের নাম দেখে পর্যটকরা ভাবেন শিলিগুড়ি শহর হয়তো অনেক দূর। অধ্যাপক অমিতাভ কাঞ্জিলালের মতে, ১৯৯৪ সালে শিলিগুড়ি পুরনিগম সম্প্রসারণের পর স্টেশনটি এখন পুরোপুরি শহরের ভেতরে। তাই ‘নিউ শিলিগুড়ি’ নামে কারও আপত্তি থাকা উচিত নয়। সাহিত্যিক গৌরীশঙ্কর ভট্টাচার্য ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তাঁর মতে, এনজেপি নামের সঙ্গে জলপাইগুড়ির মানুষের আবেগ জড়িত। নাম বদলালে দুই শহরের মধ্যে অহেতুক তিক্ততা বা সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালের আগে এই এলাকাটি জলপাইগুড়ি জেলার সম্প্রসারিত অংশের অধীনে ছিল। কিন্তু পরে শিলিগুড়ি পুরনিগমের সীমানা বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৪টি নতুন ওয়ার্ড তৈরি হয় এবং এনজেপি স্টেশন ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের অধীনে চলে আসে।
বর্তমানে উত্তর প্রদেশের মুঘলসরাই স্টেশনের নাম বদলে যেমন দীনদয়াল উপাধ্যায় করা হয়েছে, সেই উদাহরণ টেনেই শিলিগুড়িবাসী এখন রেল মন্ত্রকের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি