
কুমারঘাট (ত্রিপুরা), ২১ জানুয়ারি (হি.স.) : আর মাত্র হাতে গোনা একটি দিন। তারপরই বাগদেবী সরস্বতীর আরাধনায় মুখরিত হয়ে উঠবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বাড়ি ঘর। বসন্ত পঞ্চমীকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে যখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, তখন চরম ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে ঊনকোটি জেলার কুমারঘাটের মূর্তিপাড়ায়।
ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মৃৎশিল্পীরা। সাদা শাড়ি, বীণা, বই ও হংস বাহনের সাজে জ্ঞান ও বিদ্যার দেবী সরস্বতীর প্রতিমা গড়ে তুলতে ব্যস্ত প্রত্যেকে। কেউ মাটি গড়ছেন, কেউ আবার রং-তুলির ছোঁয়া দিচ্ছেন প্রতিমায়।
হিন্দু ধর্মের পাঁচটি প্রধান পার্বণের অন্যতম সরস্বতী পুজো। এই উপলক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বহু বাড়িতে হবে বিদ্যার দেবীর আরাধনা। সেই চাহিদা পূরণ করতেই ব্যস্ততার শেষ নেই কুমারঘাটের মূর্তিপাড়ায়।
কুমারঘাট রামকৃষ্ণ আশ্রম সংলগ্ন এলাকার মৃৎশিল্পী অরুণ কান্তি দাস জানান, এ বছর তাঁরা ছোট, মাঝারি ও বড় মিলিয়ে প্রায় ৯০টি সরস্বতী প্রতিমা তৈরি করেছেন। এক মাস ধরে দিনরাত এক করে চলছে প্রতিমা নির্মাণের কাজ। তিনি বলেন, ছোট প্রতিমার সর্বোচ্চ মূল্য এক হাজার টাকা এবং বড় প্রতিমার দাম সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও এখনও কিছু অর্ডার আসা বাকি রয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রতিমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মাটি, খড়, রং সহ সব সামগ্রীই বাজার থেকে কিনতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এসব উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভের অঙ্ক কমে গেছে। তবুও এই কাজের উপরই তাদের জীবিকা নির্ভর করে থাকায় নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
শুধু প্রতিমা তৈরি নয়, প্রতিটি মূর্তিতে নিজেদের সৃজনশীলতা ও অভিজ্ঞতার ছাপ রাখার চেষ্টাও করছেন শিল্পীরা। কেউ প্রথাগত রীতিতে, কেউ আবার আধুনিক ভাবনায় গড়ছেন সরস্বতী প্রতিমা।
জ্ঞান ও বিদ্যার দেবীর আরাধনাকে ঘিরে যখন চারদিকে উৎসবের আমেজ, তখন কুমারঘাটের মূর্তিপাড়ার মৃৎশিল্পীদের এই নিরলস পরিশ্রমই আরও রঙিন করে তুলবে এবছরের সরস্বতী পুজোর আনন্দ।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ