কাছাড়ের ‘লক্ষ্মীপুর জিরো-ওয়েস্ট আনারস উদ্ভাবন’ প্রকল্পে ১.৬৪ কোটি টাকা মঞ্জুর
শিলচর (অসম), ৩ জানুয়ারি (হি.স.) : কাছাড় জেলার অন্তর্গত লক্ষ্মীপুর ব্লকের আনারস চাষ ও প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্রে শুরু হতে চলেছে এক নতুন ও সম্ভাবনাময় অধ্যায়। কৃষিভিত্তিক উদ্ভাবন, দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা সৃষ্টির পাশাপাশি পরিবেশ-বান্ধব উন্নয়নের লক্ষ্যে লক্
লক্ষ্মীপুরের আনারস_প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি


শিলচর (অসম), ৩ জানুয়ারি (হি.স.) : কাছাড় জেলার অন্তর্গত লক্ষ্মীপুর ব্লকের আনারস চাষ ও প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্রে শুরু হতে চলেছে এক নতুন ও সম্ভাবনাময় অধ্যায়। কৃষিভিত্তিক উদ্ভাবন, দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা সৃষ্টির পাশাপাশি পরিবেশ-বান্ধব উন্নয়নের লক্ষ্যে লক্ষ্মীপুর ব্লকের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি প্রদান করেছে ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশন ফর ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়া’ (নিতি আয়োগ)। আকাঙ্ক্ষিত জেলা কর্মসূচি ও আকাঙ্ক্ষিত ব্লক কর্মসূচির অধীনে ‘লক্ষ্মীপুর জিরো-ওয়েস্ট আনারস উদ্ভাবন’ প্রকল্পের জন্য ১ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকার অনুদানে অনুমোদন করেছে নিতি আয়োগ।

শিলচরে অবস্থিত বরাক উপত্যকার তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর দিয়ে জানানো হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এই অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে আকাঙ্ক্ষিত জেলা ও আকাঙ্ক্ষিত ব্লক কর্মসূচি সংক্রান্ত সচিবদের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটির ৪৭-তম বৈঠকে। বৈঠকটি গত বছর (২০২৫) ২০ নভেম্বর নিতি আয়োগের প্রধান নির্বাহী আধিকারিকের পৌরোহিত্যে নয়াদিল্লি থেকে ভিডিও কনফারেন্সিঙের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরবর্তীতে চলতি নতুন বছরের ২ জানুয়ারি ভারত সরকারের আন্ডার সেক্রেটারি (আকাঙ্ক্ষিত জেলা ও ব্লক কর্মসূচি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, অসমর কাছাড় জেলার অন্তর্গত লক্ষ্মীপুর ব্লকে এক বছর তিন মাস মেয়াদি একটি আধুনিক জিরো-ওয়েস্ট আনারস উদ্ভাবন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য আনারস এবং এর উপজাত পণ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে বর্জ্যের পরিমাণ ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনা। পাশাপাশি মূল্য সংযোজন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত স্থায়িত্ব বজায় রাখা।

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে লক্ষ্মীপুর ব্লকে আনারসের মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ ও সুসংহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আনারস প্রক্রিয়াকরণ, উদ্ভাবনী প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষক, মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও গ্রামীণ যুবকদের জন্য নতুন জীবিকা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। জিরো-ওয়েস্ট পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এই উদ্যোগ।

এই অনুমোদনকে স্বাগত জানিয়ে কাছাড়ের জেলাশাসক মৃদুল যাদব বলেন, লক্ষ্মীপুর ব্লকে আনারস প্রক্রিয়াকরণ ও জিরো-ওয়েস্ট উদ্ভাবনের জন্য ১.৬৪ কোটি টাকার এই অনুদান জেলার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।

তিনি বলেন, “এই প্রকল্প স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আনারসের মূল্য সংযোজন বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং কৃষক ও উদ্যোক্তাদের আরও ক্ষমতায়িত করবে।” জেলাশাসক জানান, নীতি আয়োগের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্পটির কার্যকর ও সময়োপযোগী বাস্তবায়নে কাছাড় জেলা প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande