
রাইজর দলের সুপ্রিমো বিধায়ক অখিল গগৈয়ের মিথ্যাচার উন্মোচন
গুয়াহাটি, ৩ জানুয়ারি (হি.স.) : কংগ্রেসকে সন্তুষ্ট করতে গৌরব গগৈয়ের ভৃত্য হিসেবে কাজ করছেন রাইজর দলের সভাপতি তথা শিবসাগরের নির্দলীয় বিধায়ক বামপন্থী অখিল গগৈ, অভিযোগ অসম প্ৰদেশ বিজেপির মুখপাত্র ড. দেবজিত মহন্তের।
আজ শনিবার বশিষ্ঠয় প্ৰদেশ বিজেপির সদর দফতর অটলবিহারী বাজপেয়ী ভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে রাইজর দলের সুপ্রিমো অখিল গগৈয়ের মিথ্যাচার উন্মোচন করেছেন ড. দেবজিত মহন্ত এবং আরেক মুখপাত্র কল্যাণ গগৈ। দলের প্রদেশ স্তরের নেতা মানস শরণিয়া এবং প্রাঞ্জল কলিতাকে সঙ্গে নিয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে কল্যাণ গগৈ বলেন, পাঁচ বছরের কার্যকালে শিবসাগরের উন্নয়নের বদলে আন্দোলনের কেন্দ্র হিসেবেই নিজের নির্বাচন কেন্দ্রকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অখিল গগৈ।
২ জানুয়ারি অসমের অর্থনৈতিক চিত্রকে বিকৃত তথ্য দিয়ে অখিল গগৈ অসমবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন অভিযোগ তুলে বিজেপির প্ৰদেশ মুখপাত্র ড. দেবজিত অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মাকে রাজ্যের অর্থনৈতিক বিকাশ ত্বরান্বিত করার জন্য ধন্যবাদ জানান। শিবসাগরের বিধায়ক অখিল গগৈয়ের মিথ্যাচার উন্মোচন করে তিনি বলেন, গত ডিসেম্বর মাসে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার নেতৃত্বে গঠিত ছয় সদস্যের ‘আরবিআই মনিটারি পলিসি’ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধির মাধ্যমে অসম দেশজুড়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে।
অখিল গগৈ নিতি আয়োগের ভুল তথ্য তুলে ধরে অসমকে দেশের মধ্যে ২৯-তম স্থানে বলে দাবি করেছেন। এর বিপরীতে ড. মহন্ত প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে জানান, নিতি আয়োগ রাজ্যগুলিকে নম্বরের ভিত্তিতে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করে, ১০০ নম্বর প্রাপ্ত রাজ্য সম্পূর্ণ সফল, ৬৫-৯৯ নম্বর প্রাপ্ত রাজ্য ‘ফ্রন্ট রানার’, ৫০-৬৪ ‘পারফরমার’ এবং ০-৪৯ ‘অ্যাসপিরেন্ট’।
বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর অসম ২০১৯-২০২০ সালে ‘অ্যাসপিরেন্ট’, ২০২০-২০২১ সালে ‘পারফরমার’ এবং ২০২৩-২০২৪ সালে ‘ফ্রন্ট রানার’ রাজ্যে উন্নীত হয়েছে। অখিল গগৈ যেখানে ২৯-তম স্থানের কথা বলেছিলেন, সেখানে নীতি আয়োগের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী অসম দেশের মধ্যে ত্রয়োদশতম (১৩-তম) স্থানে রয়েছে।
এছাড়া, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ২০১৫ সালের নিয়ম অনুযায়ী কোনও রাজ্য মোট রাজ্য ঘরোয়া উৎপাদনের ৩২ শতাংশের বেশি ঋণ নিতে পারে না। এ ক্ষেত্রেও অসম মাত্র ২৪.৩ শতাংশ ঋণ নিয়ে দেশের মধ্যে কম ঋণগ্রস্ত রাজ্য হিসেবে ১৯-তম স্থানে রয়েছে। ২০১৫–১৬ অর্থবর্ষে অসমে মাথাপিছু দৈনিক আয় ছিল ১৬৯ টাকা, যা ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বিজেপি সরকারের আমলে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪২৮ টাকায় পৌঁছেছে।
অর্থনৈতিকভাবে পশ্চাদপদ রাজ্য থেকে অসমকে তুলে এনে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা দেশসেরা রাজ্যগুলির সারিতে দাঁড় করিয়েছেন বলে ড. দেবজিত মহন্ত দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, অখিল গগৈ সহ বিরোধী দলগুলি বিকৃত তথ্য দিয়ে অসমবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম পাঁচটি রাজ্যের মধ্যে থাকা অসম গত ৭০ বছরে ক্রমশ পিছিয়ে পড়লেও বর্তমান বিজেপি সরকারের নেতৃত্বে আবার অগ্রগামী রাজ্যের তালিকায় উঠে এসেছে। কংগ্রেসকে সন্তুষ্ট করতে অখিল গগৈ গৌরব গগৈয়ের (অসম প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি) ভৃত্য হিসেবে কাজ করছেন বলেও তিনি তীব্র সমালোচনা করেন।
দলের আরেক জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র কল্যাণ গগৈ বলেন, অখিল গগৈ শিবসাগরের একজন ব্যর্থ বিধায়ক। তাঁর নেতৃত্বে গত পাঁচ বছরে শিবসাগর আশপাশের বিধানসভা কেন্দ্রগুলির তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়েছে। উন্নয়নের বদলে আন্দোলনের কেন্দ্র হিসেবেই পরিচিত হয়েছে শিবসাগর। অখিল গগৈ বিধায়ক হওয়ার আগে বিজেপি সরকার যে রংঘরের সৌন্দর্যায়ন ও শিবসাগর সার্কিট হাউস নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছিল, সেগুলি ছাড়া তিনি নিজের উদ্যোগে কোনও প্রকল্পই গ্রহণ করেননি বলে কল্যাণ গগৈ দাবি করেন।
ধানক্ষেতে স্কুটি নিয়ে যাওয়া এবং বছরে তিনবার চাষের কথা যে অখিল গগৈ বলতেন, সেই ব্যক্তি কেন এখনও শিবসাগরে সেই ব্যবস্থা করেননি, এই প্রশ্নও তুলেন কল্যাণ। কেবল কথার জাদু দেখিয়ে সমবায়-ভিত্তিক অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার কথা বললেও শিবসাগরে একটি সমবায় প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলতে পারেননি অখিল। এর বিপরীতে প্রত্যেক বিজেপি বিধায়ক তাঁদের বিধানসভা কেন্দ্রে সমবায়ের উৎকৃষ্ট উদাহরণ স্থাপন করেছেন। গরুখুটি প্রকল্প থেকে শুরু করে পদ্ম হাজরিকার কন্যকা, সুশান্ত বরগোহাঁইয়ের মোমাই তামুলি বড়বরুয়া, ভূবন পেগু, মানব ডেকা, বিশ্বজিৎ ফুকন সহ প্রায় সব বিজেপি বিধায়কই মডেল সমবায় গড়ে তুলেছেন।
কল্যাণ গগৈ আরও অভিযোগ করেন, কাজিরঙা জাতীয় অর্কিড উদ্যান নামেই কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতির অন্তর্গত একটি সমবায় উদ্যান। কাজিরঙা অর্কিড পার্কের বোর্ড সদস্যদের দিকে তাকালে কৃষক মুক্তির সদস্যদের বদলে অখিল গগৈয়ের আত্মীয়স্বজনদেরই দেখা যায়। এছাড়া, জেলে থাকার জন্য ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর পুরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে শিবসাগরে অখিল গগৈকে মুখ থুবড়ে পড়তে হয়েছে, বলেন কল্যাণ গগৈ।
শিবসাগরের মানুষ ইতিমধ্যেই অখিল গগৈকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে অপরিচিত মানুষ (অবৈধ বাংলাদেশি) অধ্যুষিত কোনও বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তিনি জয় পেতে পারেন বলে তাচ্ছিল্য করেন কল্যাণ। বিজেপি মুখপাত্ররা শিবসাগরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে এলাকাটিকে আন্দোলনের কেন্দ্র বানানো থেকে বিরত থাকতে জনতার প্রতি আহ্বান জানান।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস