
মেলাঘর (ত্রিপুরা), ৩ জানুয়ারি (হি.স.) : তপশিলি জাতি কল্যাণ দফতরের উদ্যোগে সিপাহীজলা জেলার নলছড় দশমীঘাট ময়দানে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অদ্বৈত মল্লবর্মণ উৎসবের দ্বিতীয় দিনটি নানা আলোচনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও সামাজিক বার্তায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে।
এদিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য। সভাপতিত্ব করেন নলছড় পঞ্চায়েত সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান রীনা দেবনাথ। আলোচনা পর্বে সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য তিতাস নদী অববাহিকা থেকে উদ্বাস্তু হয়ে ত্রিপুরায় আসা জেলে সমাজের সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, নদীকেন্দ্রিক মানবসভ্যতার এই দীর্ঘ লড়াইকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতেই আয়োজন করা হয়েছে অদ্বৈত মল্লবর্মণ উৎসব।
তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহার নেতৃত্বে রাজ্য সরকার আত্মনির্ভর ত্রিপুরা গঠনে কাজ করছে এবং সমাজের অন্তিম ব্যক্তির কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দিতে উদ্যোগী হয়েছে। মহিলাদের স্বনির্ভরতা, কৃষকদের উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তায় সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী কিশোর বর্মণ বলেন, “তিতাস একটি নদীর নাম” উপন্যাসে চিত্রিত জেলে সমাজের কৃষ্টি, সংস্কৃতিকে উৎসব ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনমানসে পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
আলোচনায় অংশ নেন বিধায়ক জীতেন্দ্র মজুমদার, আগরতলা পুর নিগমের ডেপুটি মেয়র মণিকা দাস দত্তসহ আরও অনেকে। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নলছড় ব্লকের বিডিও সুরঞ্জিত সরকার।
অনুষ্ঠানে এসসি সাব-কমিটির চেয়ারম্যান ব্রজেন্দ্র চন্দ্র দাস, সমাজসেবী উত্তম দাস, লোকজিৎ দেবনাথসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। তিন দিনব্যাপী এই উৎসবকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ