
ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ৩ জানুয়ারি (হি.স.) : ডেলিভারি বয় প্রসেনজিৎ সরকার হত্যা মামলায় ন্যায়বিচারের পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে শনিবার ধর্মনগর জেলা আদালত পাঁচ অভিযুক্তের জামিন আবেদন খারিজ করেছে। পাশাপাশি আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা ইতোমধ্যে মোট তিনবার জামিনের আবেদন করেছিল। তবে মামলার গুরুত্ব, ঘটনার নৃশংসতা এবং তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় আদালত প্রতিবারই আবেদন খারিজ করে দেয়।
প্রসেনজিতৎ-এর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী শঙ্কর লোধ, তাঁকে সহায়তা করেন দেবদাস বক্সি। সরকারপক্ষ দৃঢ়ভাবে জামিনের বিরোধীতা করে এবং অভিযুক্তদের হেফাজতে রাখার পক্ষে প্রয়োজনীয় নথি ও যুক্তি আদালতে উপস্থাপন করে।
আদালতের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রসেনজিৎ সরকারের পরিবার। পরিবারের সদস্যরা বলেন, “আমরা আজকের আদেশে সন্তুষ্ট। ন্যায়বিচারের প্রতি আমাদের আস্থা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রুত বিচার সম্পন্ন হোক এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক—এই আমাদের প্রত্যাশা।”
প্রসেনজিৎ-এর হত্যাকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে ধর্মনগরসহ উত্তর ত্রিপুরায় উত্তেজনা ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি করেছে। ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক প্রতিবাদ ও ন্যায়বিচারের দাবিও উঠে এসেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, আদালতের এই রায় স্থানীয় আন্দোলনে নতুন উদ্দীপনা যোগ করেছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর ধর্মনগরের ডেলিভারি কর্মী প্রসেনজিৎ সরকারকে পাঁচজনের একটি দল প্রকাশ্যে মারধর ও অপমান করে বলে অভিযোগ। ঘটনায় জাতিগত বিদ্বেষমূলক মন্তব্য ও নৃশংস শারীরিক আক্রমণের অভিযোগও ওঠে। প্রথমে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হলেও জনচাপ ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তীতে পুলিশ একটি হত্যা মামলা রুজু করে।
বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে এবং প্রসেনজিৎ-এর পরিবারসহ স্থানীয় মানুষ দ্রুত ন্যায়বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। ঘটনাটি রাজ্যে সামাজিক ন্যায়বিচার, জাতিগত বৈষম্য এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ