
বাঁকুড়া, ৬ জানুয়ারি (হি. স. ) : যে মুখে জয় শ্রী রাম বলি সেই মুখে বাংলাদেশের শ্লোগান বলবো না বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।মঙ্গলবার তালডাংরায় বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে চাঁছাছোলা ভাষায় তৃৃণমলের সমালোচনা করেন। সেই সমালোচনায় যেমন বিদ্ধ হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তেমনি সমালোচিত হয়েছেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায় থেকে তৃনমূলের নেতা কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়, বাঁকুড়ার সাংসদ আরূপ চক্রবর্তী, তৃনমূলের জেলা সভাপতি তারা শঙ্কর রায়,সভাধিপতি অনুসূয়া রায়,স্হানীয় বিধায়ক ফাল্গুনী সিং থেকে স্থানীয় ব্লক সভাপতি।
বাঁকুড়ার ভূমিপুত্র কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়কে কল্যাণ দা সম্বোধন করে তিনি বলেন এখানের ভূমিপুত্র বর্তমানে শ্রীরামপুর পুরের সাংসদ আমাকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছিলেন শান্তিপুরে সুকান্ত এলে তাকে উচিত শিক্ষা দেবেন ,তো আমি সেখানে গিয়ে বাইক র্যালি করলাম কিন্তু কল্যাণ দার দেখা পেলাম না, কল্যাণ দাকে খুঁজতে খুঁজতে বাঁকুড়ার তালডাংরায় এলাম এখানে তার বাড়ি তাও দেখা পেলাম না ,তিনি কবিতার সুরে বলেন কল্যাণ কল্যাণ ডাক ছাড়ি কল্যাণ গেছে কার বাড়ি ,কল্যাণ গেছে মামাবাড়ি।তো কল্যাণ বাবু জেনে রাখুন মামবাড়ি-ই আপনাকে যেতে হবে।সেদিন আর বেশী দেরী নেই।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া সমালোচনা করে বলেন তিনি বলেছিলেন এস আই আর করতে দেব না, তো দম আছে আটকে দেবার? রাজ্য জুড়ে এস আই আর এর কাজ চলছে।এর আগে বলেছিলেন সিএ এ হতে দেব না।এখন বলা হচ্ছে সাংসদ অভিনেতা দেবকে ডাকা হয়েছে শুনানি তে।ঘটনা হল ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় যাদের নাম নেই তাদের ডাক পড়বে, দেবের নাম নেই সেই সময় দেব মহারাষ্ট্রে ছিলেন। অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন এখন তার র্যাম্পে হাটার শখ হয়েছে, যেখানেই সভা করতে যাচ্ছেন সেখানে মঞ্চে লম্বা র্যাম্প করা হচ্ছে আর তিনি হাটছেন,এখন আবার নতুন স্টাইল হয়েছে সভা করতে গিয়ে সেখানে সবাইকে চিরকূটে অভাব অভিযোগ সমস্যা জানাতে বলছেন, চিরকুট পড়েই তিনি নাকি সমস্যা র সমাধান করে দিচ্ছেন, তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন এখানে যারা আবাস যোজনায় বাড়ি পাননি তারা যদি চিরকুট লিখে জানান অভিষেক বাবু আপনি পাড়বেন তো সেই সব মানুষ দের ঘর তৈরী করে দিতে? উচ্চ শিক্ষিত হয়ে যে সব শিক্ষকদের চাকরি চলে গেছে, সেই ছাব্বিশ হাজার শিক্ষকদের চাকরি ফিরিয়ে দিতে?
বাঁকুড়া জেলায় রাস্তা নির্মাণ এর জন্য ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়,সেই রাস্তা নির্মাণ করেন দিলীপ চ্যটার্জী নামক এক ঠিকাদার, তা সেই রাস্তা বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সাফ,সেই রাস্তার টাকা নাকি গেছে বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী র কাছে।তো অরূপ বাবু সত্তর কোটি টাকার রাস্তা খেয়ে ফেললেন, আপনার তো বঙ্গ রত্ন সম্মান পাওয়ার কথা।তিনি আরোও বলেন ওই ঠিকাদারের পুত্র বুম্বা নাকি সবসময় সাংসদ এর পিছনে পিছনে ল্যাজ নেড়ে ঘোরেন ।
এদিন তিনি আরও বলেন, বিধানসভা নির্বাচনে র আগে লক্ষীর ভান্ডারে র টাকা বাড়ানো হবে।আমি এই মঞ্চে দাড়িয়ে বলে যাচ্ছি বিজেপি ক্ষমতা য় এলে তৃৃণমূল যে টাকা দেবে তার থেকে পাঁচশো টাকা বেশী দেবে বিজেপি সরকার।তিনি বলেন তৃৃণমূল শুধু মহিলাদের জন্য টাকা দেয় ,বিজেপি দেয় না তা কিন্তু নয়। এপ্রসঙ্গে তিনি ত্রিপুরায় বিজেপি সরকারের কন্যা সন্তানের জন্য ৫০হাজার টাকা র প্রকল্প, আসামে অরুনোদয় প্রকল্পের উদাহরণ তুলে ধরেন।
এদিন বিজেপি র পরিবর্তন সভা ঘিরে ব্যাপক উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায়।সভার পূর্বে এদিন তালডাংরায় একটি পদযাত্রায় অংশ নেন সুকান্ত বাবু।সেই পদযাত্রায় প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডাঃ সুভাষ সরকার, বিধায়ক নিলাদ্রী দানা,বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিকজেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি প্রমুখ।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট