

বোকাখাত (অসম), ৬ জানুয়ারি (হি.স.) : অসম এখন ধীরে ধীরে অন্য রাজ্যের ওপর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য নির্ভরশীলতা কমিয়ে অর্থনীতিতে অবদানকারী রাজ্যে পরিণত হচ্ছে। এই রূপান্তরের কেন্দ্রে রয়েছে আত্মনির্ভরতা, নারী নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন এবং স্থায়ী শান্তি, বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
আজ মঙ্গলবার ‘মুখ্যমন্ত্ৰী মহিলা উদ্যমিতা প্ৰকল্প’-এর অধীনে ১০ হাজার টাকার চেক প্রদান অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে কথাগুলি বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ড. শর্মা বলেন, অসম দীর্ঘদিন ধরে ডিমের জন্য পশ্চিমবঙ্গ, মাছের জন্য অন্ধ্রপ্রদেশ এবং দুধের জন্য গুজরাটের মতো রাজ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। কারণ স্থানীয় উৎপাদন ও ক্ষুদ্র ব্যবসাকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে, বিশেষত মহিলাদের মধ্যে। তিনি বলেন, সরকার পরিচালিত ‘লাখপতি বাইদেও’ (লাখপতি দিদি) তৈরির ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ গ্রামীণ ও পল্লি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
ড. শৰ্মা বলেন, ‘আমরা আমাদের নারীশক্তিকে মজবুত করতে এবং তাঁদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে কোনও খামতি রাখছি না। সরুপথারের পর আজ বোকাখাতের ২৭ হাজারের বেশি বোন মুখ্যমন্ত্ৰী মহিলা উদ্যমিতা প্ৰকল্প-এর অধীনে ১০ হাজার টাকার চেক পেয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ৪০ লক্ষ মহিলাকে লাখপতি দিদিতে পরিণত করা। এই স্বপ্নের কাছাকাছি চলে এসেছি আমরা।’ তিনি বলেন, ‘যদি মহিলারা ছোট পরিসরেও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন, তবে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক উৎপাদন সম্ভব। এর ফলে প্রথম পর্যায়ে আট লক্ষ লাখপতি দিদি তৈরি হবে এবং পরের বছর আরও আট লক্ষ যুক্ত হবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে।’
অসমের অর্থনৈতিক সূচকে উন্নতির কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা বলেন, ইতিমধ্যে অসম প্রায় ৮.৫ লক্ষ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন অর্জন করেছে। পর্যটন খাতেও ধারাবাহিক বৃদ্ধি হচ্ছে। তিনি বলেন, অসমের সর্বত্র নানাবিধ স্থানীয় পণ্য উৎপাদন করছেন মানুষ। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতার প্ৰসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অসমের অর্থনীতি প্রায় ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা এই বৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে পারি, তা-হলে জাতীয় পর্যায়ে বর্তমানে প্রায় ১৫-তম বা ১৬-তম স্থানধিকারী অসম আগামী দিনে শীর্ষ ১০ রাজ্যের মধ্যে উঠে আসতে পারে।’
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির কথাও তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির ফলে পর্যটক আকর্ষণ বেড়েছে। যুবসমাজের মধ্যে উদ্যোক্তা মানসিকতা গড়ে উঠছে।’ তিনি বলেন, ‘এখন বিপুল সংখ্যায় পর্যটক আসছেন। তরুণদের মধ্যে উদ্যোগী মনোভাব তৈরি হচ্ছে। এই বৃদ্ধি সাময়িক নয়, একে স্থায়ী করতে হবে...’, বলেন মুখ্যমন্রীয়।
উন্নয়ন টিকিয়ে রাখতে স্থায়ী শান্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী কয়েক বছর নিরবচ্ছিন্ন সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি। অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য স্থায়ী শান্তি অপরিহার্য। উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা যেন পাশাপাশি এগিয়ে যায়, সে জন্য আমাদের সজাগ থাকতে হবে।’
অনুষ্ঠানে অন্য বহুজনের সঙ্গে ছিলেন কৃষি, আবগারি এবং সীমান্ত সুরক্ষা ও উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী অতুল বরা; অর্থ, মহিলা ও শিশু উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী অজন্তা নেওগ, সাংসদ কামাখ্যা প্রসাদ তাসা, বিধায়ক এবং প্রশাসনিক আধিকারিকগণ।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস