
কলকাতা, ৬ জানুয়ারি (হি. স.) : “পশ্চিমবঙ্গে ‘মনরেগা’ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি, ভুয়ো জবকার্ড এবং তহবিল নয়ছয়ের কারণে প্রকৃত শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।” মঙ্গলবার সল্টলেকে বিজেপি কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই দাবি করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
তিনি বলেন, কেন্দ্রের পরিদর্শনে একাধিক জায়গায় গুরুতর অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ ব্যাপারে নতুন আইনের মূল লক্ষ্য হিসেবে তিনি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর নজরদারির কথা তুলে ধরেন। ১০০ দিনের বদলে ১২৫ দিনের কাজ, ৬০:৪০ অনুপাতে কেন্দ্র-রাজ্যের অর্থ বরাদ্দ, বায়োমেট্রিক হাজিরা, জিও-ট্যাগিং ও এআই-ভিত্তিক নজরদারির মাধ্যমে প্রকৃত শ্রমিকদের মজুরি সুরক্ষিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। কৃষিকাজ ও ফসল তোলার সময় শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ২০২৫ সাল থেকে কার্যকর হতে চলা এই আইন ভুয়ো জবকার্ড ও তহবিল তছরূপ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে সক্ষম হবে। পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ ভুয়ো জবকার্ড চিহ্নিত হয়েছে, যা রাজ্য সরকারের ব্যর্থতা ও দুর্নীতির স্পষ্ট প্রমাণ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘মোদীর গ্যারান্টি’ মানেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন।
শমীকবাবু বলেন, “এই আইন মহাত্মা গান্ধীর সেই দর্শনের বাস্তব রূপায়ণ, যেখানে সমাজের শেষ সারিতে থাকা মানুষকে কেন্দ্র করেই উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়।”
‘বিকশিত ভারত কর্মসংস্থান ও জীবিকা নিশ্চয়তা মিশন গ্রামীণ আইন’ (সংক্ষেপে ভি.ভি.জি. রামজি) নিয়ে এই সাংবাদিক সম্মেলনে শমীকবাবুর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আসানসোলের বিধায়ক ও রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অগ্নিমিত্রা পাল।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত