ত্রিপুরায় যুব কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচনে নীল কমল বনাম রাকেশ, দুই শিবিরের মর্যাদার লড়াই চরমে
আগরতলা, ৬ জানুয়ারি (হি.স.) : ত্রিপুরা প্রদেশ যুব কংগ্রেসে নতুন সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। দুই প্রভাবশালী শিবিরের তরফে দুই নেতাকে সামনে রেখে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই পদ দখলের লড়াই এখন চরমে।
য়ুব কংগ্রেসের সভাপতি


আগরতলা, ৬ জানুয়ারি (হি.স.) : ত্রিপুরা প্রদেশ যুব কংগ্রেসে নতুন সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। দুই প্রভাবশালী শিবিরের তরফে দুই নেতাকে সামনে রেখে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই পদ দখলের লড়াই এখন চরমে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান কংগ্রেস সভাপতির ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী বর্তমান যুব কংগ্রেস সভাপতি নীল কমল সাহাকে এবারও সমর্থন দিচ্ছে। তাঁকে বর্তমান নেতৃত্বের ‘বিশ্বস্ত মুখ’ বলেই দলে অনেকে মনে করছেন।

অন্যদিকে, বীরজিৎ সিনহা নেতৃত্বাধীন শিবিরের প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন রাকেশ দাস। বীরজিৎ সিনহা বর্তমানে কংগ্রেস বিধায়ক দলের প্রধান এবং তাঁর নেতৃত্বে বিধানসভায় দল পুনরায় সক্রিয় উপস্থিতি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। সেই কারণেই রাকেশকে ঘিরে বীরজিৎ সিনহা শিবিরে প্রবল আশাবাদী।

যদিও প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি আশীষ কুমার সাহা একসময় বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তনের পর সংগঠনে যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে, তা দলীয় মহলে স্বীকার করছেন অনেকে। জেলা ও ব্লক স্তরে সংগঠনের কাঠামো গড়ে তোলায় তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেসের উপস্থিতি নিশ্চিত করায় আশীষ কুমার সাহার কৃতিত্ব উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে,বীরজিৎ সিনহা শিবিরও নির্বাচনকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে বীরজিৎ সিনহার দলে এখনও যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে এবং তাঁর প্রার্থীকে জেতাতে শিবিরের তরফে তৎপরতা শুরু হয়ে গেছে।

উপর থেকে দেখলে মনে হলেও নির্বাচনটি দুই তরুণ নেতার মধ্যে, রাজনৈতিক মহলের মতে এটি দুটি সমশক্তির শীর্ষ নেতার মধ্যকার মর্যাদার লড়াই। ফলে যুব কংগ্রেসের এই নির্বাচন আগামী দিনে ত্রিপুরা কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোন পথে এগুবে তার দিকও নির্দেশ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন জমা নেওয়া চলবে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত এবং সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া ২০ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হবে।

একসময় রাজ্যে শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে কংগ্রেসের যে দাপট ছিল, সময়ের সঙ্গে তা অনেকটাই ক্ষয়ে গেছে। সেই শূন্যস্থানেই জায়গা করে নিয়ে বিজেপি পরপর নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় এসেছে। নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার মাধ্যমে সেই হারানো শক্তি ফিরে পাবে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande