
বিশালগড় (ত্রিপুরা), ৬ জানুয়ারি (হি.স.) : নবগঠিত বিশ্রামগঞ্জ নগর পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে তিপ্রা মথা-সমর্থিত সুশীল সমাজের একাংশের ডাকে মঙ্গলবার বিশ্রামগঞ্জে সড়ক অবরোধে জনজীবন ব্যাহত হয়। গুরুত্বপূর্ণ গোমতী-দক্ষিণ ত্রিপুরা রুটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে পড়েন স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, পরীক্ষার্থী এবং সাধারণ যাত্রীরা।
৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এ বিশ্রামগঞ্জ, চেসরিমা ও বড়জলা গ্রাম পঞ্চায়েতকে একত্রিত করে নতুন নগর পঞ্চায়েত ঘোষণা করা হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এই এলাকায় ত্রিপুরা উপজাতি স্বশাসিত জেলা পরিষদের (টিএিএএডিসি) জমি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং এতে সাংবিধানিক বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে। তারা দ্রুত সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
তবে সিপাহীজলা জেলার জেলা শাসক সিদ্ধার্থ শিব জয়সওয়াল অভিযোগগুলি নাকচ করে জানিয়েছেন, নতুন পঞ্চায়েতের সীমানা রাজস্ব রেকর্ড অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে এবং কোথাও টিটিএএডিসি-এর জমি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। জেলা প্রশাসনের দাবি, “টিটিএএডিসি-এর এক্তিয়ারের সঙ্গে কোন ওভারল্যাপ নেই এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সীমানা নির্দিষ্ট করা হয়েছে।”
অন্যদিকে, টিটিএএডিসি-র সিইএম পূর্ণচন্দ্র জমাতিয়া মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহাকে চিঠি দিয়ে আপত্তি জানিয়ে অভিযোগ করেন, পরিষদের সম্মতি ছাড়াই টিটিএএডিসি-এর জমি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি অতীতে জেলা হাসপাতাল ও এসপি অফিস গঠনের সময় টিটিএএডিসি-এর অনুমতি নেওয়ার নজিরও তুলে ধরেন।
প্রশাসন সূত্রে পাল্টা দাবি করা হয়েছে, সিইএম-এর চিঠি বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে এবং অযথা অস্থিরতা বাড়িয়েছে। তাদের বক্তব্য, যেহেতু নতুন সীমানা টিটিএএডিসি এলাকাকে স্পর্শ করেনি, তাই আলাদা পরামর্শের প্রয়োজন ছিল না।
সীমানা নিয়ে যাবতীয় প্রশ্নের মীমাংসায় বিশালগড়ের এসডিএম-এর নেতৃত্বে একটি যৌথ সীমানা নির্ধারণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে প্রশাসন, নগর পঞ্চায়েত, টিটিএএডিসি এবং স্থানীয় সমাজকর্মীদের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। দলটি সরেজমিনে যাচাই করে পরিস্থিতি স্পষ্ট করবে।
এদিনের অবরোধের ফলে পরীক্ষার্থীসহ শত শত মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। অনেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে দীর্ঘ পথ হাঁটতে বাধ্য হন। এলাকাবাসী সংযমের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ঘনঘন অবরোধ শিক্ষাব্যবস্থা, জরুরি পরিষেবা ও জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ থাকলেও, জেলা প্রশাসন শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসার জন্য সকল পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে এবং জোর দিয়ে বলেছে যে ভুল তথ্য ও অযৌক্তিক আন্দোলনের মাধ্যমে উন্নয়ন ও শাসনব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করা উচিত নয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ