

দুর্গাপুর, ৭ জানুয়ারি (হি.স.): মকর সংক্রান্তির আগে বীরভূমের জয়দেব কেন্দুলী মেলায় যাতায়াতের জন্য অজয় নদে অস্থায়ী সেতু নির্মাণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উত্তাল হয়ে উঠল পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার শিবপুর এলাকা। বুধবার সেতু নির্মাণের দাবিতে গ্রামবাসীরা নবনির্মিত স্থায়ী সেতুর সংযোগকারী রাস্তা অবরোধ করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় বিপুল পুলিশ বাহিনী ।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অনুমতি ছাড়াই নদীতে হিউম পাইপ বসিয়ে অস্থায়ী সেতু নির্মাণ শুরু হয়েছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেচ দফতর আপত্তি তুলতেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হতেই ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা সেচ দফতরের আধিকারিকদের ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রসঙ্গত, জয়দেব কেন্দুলীর মকর সংক্রান্তি মেলা রাজ্য ও রাজ্যের বাইরেও সুপরিচিত। প্রতিবছর লক্ষাধিক পুণ্যার্থী ও পর্যটকের সমাগম হয়। কাঁকসার শিবপুর দিয়ে অজয় নদ পারাপার হলে বীরভূম থেকে দুর্গাপুর আসার দূরত্ব প্রায় ২৫-৩০ কিলোমিটার কমে। তাই দীর্ঘদিন ধরেই এই রুটে অস্থায়ী সেতুর মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়।
যদিও সম্প্রতি অজয় নদে প্রায় ১৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থায়ী সেতু নির্মিত হয়েছে এবং গত জুলাইয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন, তবু গ্রামবাসীদের দাবি—মেলার সময় বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে অস্থায়ী সেতু অপরিহার্য।
বুধবার বিদবিহারের নবগ্রামে বাঁশ বেঁধে ও টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। ফলে দুই জেলার মধ্যে যান চলাচল কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। গ্রামবাসীদের দাবি, অস্থায়ী সেতু না হলে মেলার সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার মানুষের রুজি-রুটিতে প্রভাব পড়বে।
এদিকে বিজেপির দুর্গাপুর-বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি রমন শর্মা বলেন, “কুম্ভমেলায় একাধিক অস্থায়ী সেতু তৈরি হয়। অথচ জয়দেব মেলার জন্য একটি সেতু নির্মাণ নিয়েই টালবাহানা করা হচ্ছে।”
অন্যদিকে বিদবিহার গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান গোপাল সরকার জানান, বিষয়টি নিয়ে সেচ দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধান সূত্র বেরোবে বলে আশ্বাস দেন।
প্রশাসনিক আশ্বাসের পর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পরে অবরোধ প্রত্যাহার করেন গ্রামবাসীরা।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা